একটু হিসেব করে সব কাজ করতে ভালোবাসেন লাক্সতারকা শানারেই দেবী শানু। তাই লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি মিডিয়ায় কাজ করেছেন তুলনামূলক কম। কাজের মান যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি একাডেমিক পড়াশোনা নিয়েও তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। কাজের মাঝেই জেভিয়ার শান্তনু বিশ্বাস নামের এক সুদর্শনকে বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করেন। তাদের ঘর আলো করে আছে একমাত্র পুত্র জেনাস ঋত বিশ্বাস। সংসারের প্রয়োজনে তিনি মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতি নেন। আবারও মিডিয়ায় ফেরেন অভিনয়ের টানেই। দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী শানু বাবা একে শেরামের পথ অনুসরণ করেই নিজেকে একজন লেখক হিসেবে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। যে কারণে ২০১৭ সালে একুশে গ্রন্থ মেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশিত হয় অনন্যা প্রকাশনী থেকে। প্রথম কবিতার বই দিয়েই বেশ সাড়া ফেলেন শানু। সে বছরই কবিতার বই লিখে ‘সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন তিনি। পরের বছর শানুর অনন্যা থেকে ‘লাল এপিটাফ’, চৈতন্য থেকে ‘অসময়ের চিরকুট’ এবং তাম্রলিপি থেকে ‘ত্রিভূজ’ কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। লেখালেখির মধ্যে নিজের মধ্যে যেন শানু এক অন্য শানুর দেখা পান। আর তাই গেল বছরের শেষপ্রান্তে এসে তিনি একটি উপন্যাস লেখার কাজে নিজেকে মগ্ন রাখেন। কারণ কবিতার বইতো বেশ কয়েকটি প্রকাশ হলো তার। এবার নিজেকে কবি থেকে লেখক হিসেবে তার পাঠক ভক্তের কাছে তুলে ধরার ব্যাকুলতা। আগামী একুশে গ্রন্থমেলায় শানুর লেখা জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘একলা আকাশ’ পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছে তাম্র্রলিপি প্রকাশনী। অধীর আগ্রহ নিয়ে একুশে গ্রন্থ মেলার জন্যই এখন শুধু তার অপেক্ষা। তবে এবারের বইমেলায় যে তার উপন্যাসই যে শুধু প্রকাশ হচ্ছে এমনটি নয়। ‘একলা আকাশ’-এর পাশাপাশি একটি শিশুতোষ গল্পের বই প্রকাশ পাচ্ছে গ্রন্থ মেলায়। এটি প্রকাশ করছে অনন্যা। ২০০৫ সালের ‘লাক্স চ্যানেলে আই’ সুপারস্টার ও অভিনেত্রী শানারেই দেবী শানু বলেন, ‘আমার লেখালেখরি অনুপ্রেরণা আমার বাবা। সবসময়ই আমার ইচ্ছে হতো বাবার মতো লিখতে। তবে কখনো ভাবনা ছিল না যে লেখালেখি করতে পারব। কিন্তু অবশেষে যখন লেখালেখি শুরুই করে দিয়েছি তখন বাবার পথটা অনুসরণ করে নিজেকে অনেকদূরে নিয়ে যেতে চাই এই লেখালেখির ভুবনে। অবশ্যই সবার আশীর্বাদ কামনা করি সবসময়। এবারের গ্রন্থ মেলায় রোমান্টিক গল্পের উপন্যাস ‘একলা আকাশ’ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য বইটি নিয়েও আশাবাদী আমি।’ শানু অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—শাকুর মজিদের ‘বৈরাগী’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘পলাশ ফুলের গন্ধ’, হুমায়ূন আহমেদের ‘কবি’, সালাউদ্দিন লাভলুর ‘সাকিন সারিসুরি’, রেজানুর রহমানের ‘আহ ফুটবল বাহ ফুটবল’, সাগর জাহানের ‘আরমান ভাই বিরাট টেনশনে’, শিমুল সরকারের ‘চোরকাব্য’, রিপন নবীর ‘আপনঘর’, অরণ্য আনোয়ারের ‘কবিরাজ গোলাপ শাহ’, ‘বুকে তার চন্দনের ঘ্রাণ’, ও ‘কর্তাকাহিনি’, দেবাশীষ বড়ুয়া দীপের ‘জ্যোতিরাজ টিপু সুলতান’ ও ‘ইলেকশন ইলেকশন’, আপেল মাহমুদের ‘ছবির হাট’, ফয়সাল রাজীবের ‘পর্দার আড়ালে কে’ ও ‘রুপালি ও রুপালি পর্দার গল্প’ প্রভৃতি। এদিকে শানু অভিনীত ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ সিনেমাটি গত বছর নভেম্বরে মুক্তি পায়। এটি তার অভিনীত প্রথম সিনেমা। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন খিজির হায়াত খান। চলচ্চিত্রের পর এবার ‘কুড়িয়ে পাওয়া সুখ’ শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন তিনি। সামসুল হকের রচনায় এটি পরিচালনা করেছেন সোয়েব আহমেদ। চলচ্চিত্রটি বিদেশি উত্সবগুলোতে প্রদর্শন করা হবে। এদিকে বর্তমানে তিনি চ্যানেল আইতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক ‘সাত ভাই চম্পা’ ও এনটিভিতে প্রচার শুরু হওয়া সাগর জাহানোর ‘সোনার খাঁচা’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ‘সাত ভাই চম্পা’ ধারাবাহিকে বড় রানি চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।
