এক মণ ধানে এক জন শ্রমিক!

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২২:২৭

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

মনোহরগঞ্জে এক মণ ধানের দাম দিয়েও পরিশোধ হচ্ছে না একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানকাটা শ্রমিকের পারিশ্রমিক কৃষকের নাগালের বাইরে। শ্রমিক সংগ্রহে এখানকার কৃষকদের দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। চলমান করোনা পরিস্থিতি ও বিধিনিষেধে পর্যাপ্ত শ্রমিক সংকটে এমন পরিস্থিতি তৈরির কথা জানান কৃষকরা। এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার কাজে আসা শ্রমিকদের প্রতি জনকে ৮০০ টাকায় নিতে বাধ্য হয়েছেন এখানকার কৃষক। বর্তমানে এখানকার স্থানীয় বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়।

উপজেলার লত্সরের ইউনুস, মৈশাতুয়ার দুলাল, বিপুলাসারের ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েক জন কৃষক জানান, এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকায় ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলার বিজয়পুর এলাকায় বসে শ্রমিকের হাট। সেখানে অন্যান্য জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের জনপ্রতি ৮০০ টাকা দরে নিয়ে আসেন তারা। রংপুর থেকে ধান কাটতে আসা হামিদ, লিটন, মাকছুদ, ময়নালসহ কয়েক জন শ্রমিক জানান, টাকা ৮০০ হলেই আমাদের যেখানে নিয়ে যায়, সেখানেই কাজ করি। ধান কাটা শেষে টাকা জমিয়ে তারপর বাড়ি যাই। তারা জানান, একে তো করোনা তার ওপর আবার লকডাউন, আসা-যাওয়ায় যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ায় ৮০০ টাকার নিচে কাজ করলে পোষে না।

উপজেলার চড্ডা গ্রামের কৃষক জাবেদ হোসেন জানান, তিনি পাঁচ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। ধান কাটতে তিনি ছয় জন শ্রমিক আনেন। প্রতিদিনের মজুরি হিসেবে তাদের দিতে হয় ৮০০ টাকা। এসব শ্রমিকের মাথাপিছু থাকা-খাওয়া বাবদ প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। বাজারে বিভিন্ন জাতের প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ সাড়ে ৮০০ টাকায়। অথচ এক মণ ধান বিক্রি করেও হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মজুরির দাম। এত খরচ পুষিয়ে কাঙ্খিত মুনাফা অর্জন নিয়ে চিন্তিত তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক জানান, এবার সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৭ টাকা করে প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় একটু বেশি।