পশ্চিমের জেলাগুলোতে আম কাঁঠালের ফলন কমার আশঙ্কা

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২১:৫৭

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে এবার আম কাঁঠালের উত্পাদন কম হবে। এ বছর আমের মুকুল কম ধরে। তারপর বৈরি আবহাওয়ার কারণে মুকুল ও গুটি ঝরে পড়ে। কাঁঠালের মুচিও এবার কম ধরে। খরার কারণে কাঁঠাল বড়  হচ্চ্ছে না।  মাঝেমধ্যে মেঘ জমলেও প্রত্যাশিত বৃষ্টি নেই। ছিটেফোটা বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ৪০৯১ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২৮৮২ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ১৩০৫ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ১৯৫২ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৯৩৩ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ২৩৫০ হেক্টরে আম বাগান আছে। এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান তৈরি করা হচ্ছে। আগে দেশি আমের বাগান ছিল। কারো কারো বাড়িতে দুই-একটি ফজলি আমের গাছ ছিল। তা দিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মিটানো হতো। পাশাপাশি প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনকে দেওয়া হতো। ১৯৯০ সালের দিকে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান তৈরি শুরু হয়। লেংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি, মল্লিকাসহ নতুন নতুন জাতের আম বাগান তৈরি করা হচ্ছে। বাগানের পরিচর্যা করা হয়। এখন প্রতি বছরই গাছে আম ধরে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তার ১০ কাঠা জমিতে আম বাগান অছে। এবার গাছে মুকুল কম  আসলেও গুটি ভালো ধরে। কিন্তু খরায় গুটি ঝরে পড়ছে। এতে ফলন কম হবে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের নাজমুল হোসেন বলেন, তাদের গ্রামে দেড় হাজার বিঘা জমিতে আমের বাগান তৈরি হয়েছে। বাগানগুলোতে গাছে ভালো গুটি ধরেছিল। কিন্তু টানা খরার কারণে গুটি ঝরে পড়েছে। এতে আমের ফলন কম হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মেহেরপুরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান, দেশের মধ্যে মেহেরপুর জেলা অন্যতম আম উত্পাদনকারী জেলা। টানা খরার কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। এতে ফলন কম হবে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহেদুল আমিন বলেন, এবার খরার কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। কাঁঠালও কম ধরেছে। এবার পশ্চিমের জেলাগুলোতে কাঁঠাল কম ধরেছে। খরার কারণে কাঁঠালের বৃদ্ধি থেমে গেছে। ফলনও কম হবে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমের ছয় জেলায় ৩ হাজার ৭০৩ হেক্টরে কাঁঠাল বাগান আছে। বেশি কাঁঠাল বাগান আছে যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এবার কাঁঠালের মুচি কম ধরেছে। তারপর খরার কারণে কাঁঠাল বড় হচ্ছে না। এতে ফলন কম হবে।