নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পশ্চিমবঙ্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির মূল্যায়নে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। গতকাল শনিবার তারা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে যান। সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তারা ভারত সরকারকে প্রতিবেদন দেবেন। তবে সেই রিপোর্ট যাই হোক, তার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা সম্ভব না। এমনকি ভারত সরকার এক তরফাভাবে চাইলেও তা করতে পারবে না। ভারতে সেসব রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায় যেখানে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনও সরকার না থাকে না কিংবা সেই সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়লে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই প্রযোজ্য নয়। ভারতের সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায়। ৫টি কারণে তা হতে পারে। প্রথম, এই ধারা অনুযায়ী ভারতের রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার সংবিধান অনুযায়ী সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ?সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের দেওয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হলে। তৃতীয়ত, কোনও জোট সরকার থাকাকালীন তা ভেঙে গিয়ে রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়লে এবং মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে (যেমনটা হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে), একইসঙ্গে অন্য কোনও দলেরও সরকার গড়ার গরিষ্ঠতা না থাকলে। চতুর্থত, অনাস্থা প্রস্তাবের কারণে ক্ষমতাসীন রাজ্য সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে। পঞ্চমত, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ কিংবা মহামারির কারণে নির্বাচন স্থগিত হলে।
ভারতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হলে সংসদের কোনও অনুমোদন লাগে না। একবারে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায় ৬ মাস পর্যন্ত। পরবর্তীতে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে। তবে কোনভাবেই ৩ বছরের বেশি কোনও মতেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রাখা যায় না। ১৯৭৮ সালের সংবিধানের ৪৪তম সংশোধন অনুযায়ী, এক বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রাখতে হলে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যে জরুরি অবস্থা রয়েছে এবং নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি নেই।
অতীতে জাতীয় কংগ্রেস বহুবার এই অস্ত্র প্রয়োগ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালিত নির্বাচিত, সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে ১৯৯৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জারি করা এক নির্দেশিকার কারণে এখন তা আর ইচ্ছা মতো প্রয়োগ করা যায় না। পরিবর্তে যা প্রয়োগ করা যায় তা হল, ৩৫৫ ধারা। কোনও রাজ্যে বহির্দেশের হামলা কিংবা আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেক্ষেত্রে ভারত সরকার এই ধারা প্রয়োগ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচিত রাজ্য সরকারও থাকবে আবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। আধা সেনা মোতায়েন করে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রয়োজনে সেনা নামানো যেতে পারে।
জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি সম্ভব হয়েছিল, কারণ সেখানে বিজেপি ও মেহেবুবা মুফতির পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) জোট ভেঙে যাওয়ায় সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছিল। একইসঙ্গে অন্য কোনও দলও সরকার গড়ার অবস্থায় ছিল না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের।
