আগ্রহ যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২১:৩১

গত বছরের মতো এ বছরও দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ৩১ জুলাই পরীক্ষাটি

অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছ বা আগ্রহের তালিকায় রয়েছ, তাদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক কিছু পরামর্শ

দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষার্থী। আজ দ্বিতীয় পর্ব। লিখেছেন— মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর

প্রস্তুতি যেমন হতে হবে

গত বছর থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় প্রস্তুতিতেও এসেছে কিছু ভিন্নতা। মেডিক্যাল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি অনেকটা একই রকম শুধু আলাদাভাবে গণিত করলেই হয়। কৃষি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে জীববিজ্ঞান এবং রসায়নে একটু বেশি জোর দিতে হবে। পদার্থ ও গণিতের প্রশ্নে এসেছে কিছুটা ভিন্নতা, যা গত বছরের প্রশ্ন দেখলেই ধারণা পাওয়া যাবে। যারা মেডিক্যাল বা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তাদের নতুন করে জীববিজ্ঞানের প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু নেই। রসায়নের ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অবশ্যই আয়ত্তে রাখতে হবে। পাশাপাশি ছোট ছোট সূত্র সম্পর্কিত অঙ্কগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোপরি, নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে এখনই। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বারবার চর্চা করা অধিক শ্রেয়। কারণ দেখা যায়, বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে অনেক প্রশ্ন কমন আসে। সুতরাং বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সলভ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

মো. চয়ন মুন্সি

কৃষি অনুষদ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে কোনটি এগিয়ে রাখব

দেশে কৃষিবিষয়ক পড়াশোনা একটি সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাবে এটা খুব সহজেই বলা যায়। আর তা যদি হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তাহলে তো কথাই নেই। কেননা বাকৃবি শুধু দেশেরই নয় বরং দক্ষিণ এশিয়াতেও অন্যতম সেরা একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কৃষি সম্পর্কিত বিষয়ে বাকৃবির মান বিশ্ব র্যাঙ্কিং দেখেই বলে দেওয়া যায়। তবে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানও অনেক সমৃদ্ধ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়া অনুষদভিত্তিক পরামর্শ চাইলে বলব কৃষি অথবা ভেটেরিনারি অনুষদ অনুমিতভাবেই প্রথম তালিকাতে রাখা উচিত। তারপর ফিসারিজ, পশুপালন, ইঞ্জিনিয়ারিং রাখা উচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কৃষি অর্থনীতি। কেননা এই ডিগ্রিটি সম্প্রতি অর্জন করেছে বিসিএসের টেকনিক্যাল ক্যাডার। সুতরাং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষদই এখন কম নয়। এখন সময় শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের সাফল্য ছিনিয়ে আনা।

আতিকুর রহমান

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বোপরি লক্ষ্য থাকুক অবিচল

যারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছ, তাদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। এসময়ে নিজেকে পরিপূর্ণরূপে প্রস্তুত করার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা একান্ত প্রয়োজন। নিজের লক্ষ্যে  অবিচল থেকে এগিয়ে যাও। কোনো পিছুটান বা নিন্দুকের কথায় কর্ণপাত না করে নিজের জন্য লড়াই করে যাও। সর্বমোট প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আসনের প্রতিটির বিপরীতে পরীক্ষার্থী মাত্র ১০ জন। সেই হিসেবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া কঠিন কোনো বিষয় নয়।

আর গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় বারবার আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো চাপ নেই। বাকৃবি, শেকৃবি, সিকৃবি প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তোমাকে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তৈরি করে দেশের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করতে পথপ্রদর্শক হবে। এমতাবস্থায় কোনো ভুল পরামর্শ ও সমালোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণ কর। সবার জন্য শুভকামনা।

জহুরুল হক জীবন

ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।