করোনাকালীন ঈদ ভাবনা

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২১:৩১

 

করোনাকালে আবার এসেছে ঈদ, বছরের সবচেয়ে খুশির দিন। কিন্তু এ ঈদের আনন্দ এবারও অনেকটাই ম্লান। গত দুই ঈদের পর এবারের ঈদকে ঘিরে নানা আয়োজন, পরিকল্পনা থাকলেও করোনা ভাইরাস আবার সব আয়োজন, পরিকল্পনা শেষ করে দিয়েছে। তবে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ভোগে নয় ত্যাগে। সামাজিক দূরত্ব বজায়ের বাধ্যবাধকতায় স্বজনের সঙ্গে ঈদে আমরা আক্ষরিক অর্থে কোলাকুলি করতে পারব না। তবে আমরা পরস্পরকে অদৃশ্যভাবে জড়িয়ে রাখতে পারব প্রীতিতে, স্নেহ, ভালোবাসায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দটা যেন একটু অন্য রকমই হয়। মানবিকতা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন অনেকেই। তেমনি কয়েক জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন এবারের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন— মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

সংকটকালীন এই

ঈদে অসহায়দের

পাশে দাঁড়ান

ঈদকে ঘিরে কেনাকাটা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে থাকে নানা আয়োজন। তবে মহামারিকালীন এই ঈদ যেন বিবর্ণ। তবুও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে মানুষ কেনাকাটা করছে। চলছে বাড়ি যাওয়ার মেলা। থেমে নেই শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের জীবন। গত বছরের ঈদের চেয়ে এবারের ঈদ যেন আরো পানসে। মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ক্ষুদে বার্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে ঈদ। ঈদগাহে হবে না ঈদের নামাজ। ঈদের আনন্দ কোলাকুলিই হবে মরণ ঘাত। তবে এই ঈদকে মানবিক ঈদ করে তোলার মধ্যেই এবারের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। সংকটকালীন এই ঈদে বেশি সমস্যায় পড়ছে অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষেরা। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সাহায্যের হাত বাড়ালেও তা যথেষ্ট নয়। বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়ালে সবার মতো করে তারাও পারে দিনটিকে আনন্দময়ভাবে উদ্যাপন করতে।

—আজাহার ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ঘর-ছাদ আর নেট

ঘেঁটে নিরানন্দের

ঈদ

কোভিড-১৯ বিশ্বে মানব শরীরে হানা দেয় ২০১৯-এ। আমাদের দেশে এলো আজ প্রায় বছর দেড়েক ছুঁইছুঁই। এরই মধ্যে দুটি ঈদ পার করেছি আমরা। পূর্বের দুটি ঈদের মতো সারা দিন ঘরে বসে, শেষ বিকালে বাসার ছাদে আর ইন্টারনেটে বসে কেটে যাবে ঈদের দিন। আত্মীয়স্বজন বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে ভার্চুয়ালি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। বিকাল বেলা পরিবার নিয়ে ছাদে হাঁটাহাঁটি করেই এবারের ঈদটা কেটে যাবে। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে এর বাইরে তো কিছু করার নেই। ঘরে বন্দি থেকে আর কেমন ঈদ উত্সব পালন করতে হবে। কেননা এবারের ঈদটাও ঠিক আগের মতোই এসেছে আমাদের জীবনে। এবার বেঁচে থাকাই আমাদের বড় ঈদ হবে। শুধুমাত্র মানবিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

—খাদিজা খানম ঊর্মি

শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঈদ আনন্দ হোক পারস্পরিক সহমর্মিতার

ঈদের দিনটি সবার মতো আমারও অত্যন্ত পছন্দের। মা-ভাবির হাতের রান্না খাওয়া, স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর আড্ডা-গল্পের উপলক্ষ্য তৈরি হয় ঈদেই। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাব। এভাবে ঈদের দিনটি পার করব। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদটা কাটাব। আর ঈদ মানে শুধু নিজে ভালো খেয়ে, ভালো পড়ে, নিজে ভালো থাকা নয়, পাশাপাশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে নিয়ে আনন্দকে ভাগ করে নেওয়া। আমরা বন্ধুরা মিলে ঈদের আগে গরিব-দুঃখী পরিবারকে সব সময় সাহায্য-সহযোগিতা করি। এবারও করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর বাইরে এলাকার আরো বন্ধু-বড় ভাই, আত্মীয়-পরিজন তো রয়েছেন; তাদের সবার সঙ্গে ভার্চুয়ালভাবে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেব। ঈদের এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মজাই আলাদা। ঈদ সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনুক এটাই প্রত্যাশা।

—রেজওয়ান আহম্মেদ

শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

এবারের ঈদ হোক

সম্প্রীতি ও

ভালোবাসার

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের আকাশেও উঁকি দেয় শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ। বেজে ওঠে উত্সবের সাইরেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পালটে দিয়েছে ঈদের সেই চিরচেনা আমেজ। প্রতি মুহূর্তেই নতুন সংক্রমণ, নতুন মৃত্যুর খবরে সবাই বিপর্যস্ত। প্রতি বছর ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি থাকে তুঙ্গে। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বিপরীত। তার পরও ঈদের আনন্দ কিছুটা উপভোগ করতে যে যার মতো করে নিচ্ছে এবারের ঈদপ্রস্তুতি। আমার বেলায়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। করোনাকালীন এবারের ঈদের পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাব বলে মনস্থির করেছি। আমি ও আমার বন্ধুরা মিলে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছি। আমরা বন্ধুরা মিলে গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে ঈদের দিন সেমাই-মিষ্টি তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।

—ফারহানা ইয়াসমিন

শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।