মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ
২৪ বছর বয়সেই রক্তের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছেন হাফিজুর রহমান (হাফিজ)। জন্মেছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের মাজাট গ্রামে। পড়ছেন শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অনবরত। রক্ত দেওয়া ও সংগ্রহের নেশায় ছুটে চলেছেন শহর কিংবা গ্রামে। কখনো নিজে রক্ত দেন, আবার কখনো রক্তদাতা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে।
হাফিজ নিজ এলাকায় এক নজির সৃষ্টি করেছেন। কয়েক বছর আগেও রক্তের প্রয়োজনে এলাকাবাসী দারস্থ হতেন পেশাদার রক্তদাতাদের কাছে। মূল্য পরিশোধ করে রক্ত সংগ্রহ করতেন। বেশি বিপাকে পড়ত গরিব-দুস্থরা। হাফিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এখন বিনা মূল্যে এবং সহজেই রক্ত পাচ্ছেন তারা। হাসি ফুটছে অনেকের মুখে।
‘রক্ত দিন, জীবন বাঁচান’—এই মূলমন্ত্র হূদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন হাফিজ। অনেক সহপাঠীই এখন তাকে রক্তবালক হাফিজ বলেই সম্বোধন করে থাকেন। চলতি রমজানেও প্রায় ৩০ ব্যাগের মতো রক্ত সংগ্রহ করেছেন। রক্তদানে আগ্রহী ও রক্তগ্রহীতাদের রক্তের গ্রুপ, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে রাখেন তিনি। তার কাছে জেলার বিভিন্ন স্থানের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডোনারের তালিকা রয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রক্ত নিয়ে কাজ করতে চান হাফিজ। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে অসংখ্য অভাবগ্রস্ত মানুষ রয়েছে। যাদের টাকা দিয়ে রক্ত কেনার সামর্থ্য নেই। রক্তদান ও সংগ্রহ করে মানুষের জীবন বাঁচানোতেই আমার তৃপ্তি। আমার সামান্য কষ্টে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটে।
