পুলিশ সেবা সপ্তাহ চলিতেছে। ‘পুলিশকে সহায়তা করুন, পুলিশের সেবা নিন’—এই স্লোগানকে সামনে রাখিয়া ২৭ জানুয়ারি হইতে শুরু হইয়াছে ‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ ২০১৯’। চলিবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে নানা কর্মসূচি। তন্মধ্যে দেশব্যাপী পুলিশের সকল ইউনিটে আলোচনা সভা ও র্যালির মতো গতানুগতিক কার্যক্রম যেমন আছে, তেমনই যুক্ত হইয়াছে যুগোপযোগী নূতন কিছু মাত্রাও। ইতিবাচক দিক হইল—কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা আত্মপ্রচার নহে, বরং যৌক্তিকভাবেই জোর দেওয়া হইয়াছে পুলিশের প্রদত্ত সেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর। পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ হইতে বলা হইয়াছে যে, সেবা সপ্তাহকে সামনে রাখিয়া পুলিশের সেবা সম্পর্কে ধারণা দিতে যেমন নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হইয়াছে, তেমনই পুলিশের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় কীভাবে পৌঁছাইয়া দেওয়া যায়—সেই বিষয়টির উপরও দেওয়া হইতেছে বিশেষ গুরুত্ব। তন্মধ্যে রহিয়াছে ট্রাফিক আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কিত সচেতনতার বিষয়ও—ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাহা অবিকল্পই বলা যায়। পাশাপাশি পুলিশ হেল্পলাইন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তি, আইজিপি কমপ্লেইন সেল, নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবাসহ বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণে গ্রহণ করা হইয়াছে বাস্তবসম্মত বিভিন্ন কৌশলও।
পুলিশ সেবা সপ্তাহের সর্বাপেক্ষা ইতিবাচক দিকটি নিঃসন্দেহে জনসম্পৃক্ততা। নানাভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগটি সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থার উন্নয়নেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলিবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছাত্রছাত্রীদের ট্রাফিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে। সম্পৃক্ত করা হইয়াছে গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংস্থাসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে। এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কারণ দুর্ভাগ্যজনক হইলেও সত্য যে, আমরা প্রতিনিয়ত সব ধরনের বিপদে-আপদে পদে পদে পুলিশের সহায়তার উপর নির্ভরশীল হইলেও প্রশংসা নহে, তাহাদের ভাগ্যে নিন্দাই জোটে বেশি। প্রায়শ অল্প পরিমাণ নেতিবাচক খবরের নীচে চাপা পড়িয়া যায় তাহাদের বিপুল পরিমাণ ইতিবাচক অবদানের কথা। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বহুমাত্রিক সমস্যাকবলিত এই দেশে পুলিশের কয়েক লক্ষ সদস্য যেভাবে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করিয়া চলিয়াছেন—তাহা রীতিমতো বিস্ময়ের উদ্রেক করে। কারণ প্রতিকূলতা এত বেশি এবং তুলনায় সুযোগ-সুবিধা এতটাই সীমিত যে উন্নত দুনিয়ার পুলিশ বাহিনীর সহিত তাহাদের তুলনা চলে না কোনোভাবেই। কিন্তু, বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, জঙ্গি দমন হইতে শুরু করিয়া গুরুতর সব সমস্যার মোকাবিলায় তাহাদের সাফল্য উন্নত দেশগুলির জন্যও ঈর্ষার কারণ হইতে পারে। বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকাইলেই তাহা কিছুটা হইলেও উপলব্ধি করা যায়। বাস্তবতা হইল, বাংলাদেশ যাহা পারিয়াছে, বহু উন্নত দেশও তাহা পারে নাই। অতএব, কারণে-অকারণে যাহারা পুলিশের সমালোচনায় মুখর হইয়া উঠেন তাহাদের উচিত হইবে দর্পণে নিজের ও সমাজের মুখটি ভালো করিয়া দেখা। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা নিঃসন্দেহে আমাদের অকুণ্ঠ প্রশংসা পাইবার দাবি রাখে। আমরা পুলিশ সেবা সপ্তাহের পূর্ণ সাফল্য কামনা করি।
