একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে মনোনয়ন যুদ্ধ। কে কিভাবে বাগিয়ে নিবেন দলীয় মনোনয়ন তা নিয়ে রীতিমত লবিং, গ্রুপিং, তদবির, শোডাউন- সবই চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কারো কারো মতে, দলীয় প্রধানের নজরে আসার জন্যও অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এবং জমা দিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও যেন বলতে পারেন ‘এমপি’ প্রার্থী হওয়ার জন্য ফরম কিনেছিলাম, তবে পাইনি। তাতে কি আলোচনায় তো এসেছি।
ঠিক তেমনিভাবে সদর-বন্দর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা হলেন— জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভুঁঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি. এম আরাফাত। এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজনকে নিয়ে সদর-বন্দর আসনে আলোচনা বাড়তি জায়গা করে নিয়েছে। তারা হলেন— জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, তিন নাম্বার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল। এই তিনজনই নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠজন। এরমধ্যে আব্দুল কাদির মেয়রের ভগ্নিপতি ও আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল মেয়রের ছোট ভাই। তাছাড়া আব্দুল কাদির ও উজ্জলের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে আরো একটা পরিচয় রয়েছে। তা হলো আব্দুল কাদির পৌর পিতা আলী আহম্মদ চুনকার মেয়ের জামাই। আর উজ্জল ছেলে। তাই মেয়রের সমর্থন আব্দুল কাদির অথবা উজ্জলের দিকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে মেয়রের সমর্থন না পেলে শূন্যের কোঠায় আবু সুফিয়ানের জনসমর্থন— এমনটাই বলছেন নির্বাচনী এলাকার সচেতন মহল। তবে আবু সুফিয়ান মেয়রের সাথে বেশ কয়েক বছর যাবত আছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দলীয় কার্যক্রমে মেয়রের সাথে একত্রে অংশ নেন সুফিয়ান। সে হিসেবে সুফিয়ানও সমর্থন পাবার দাবি করতেই পারেন। এমন অবস্থায় মেয়রের সমর্থন কার দিকে যাবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে মেয়রের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন মেয়র আইভী তার পক্ষেই কাজ করবেন। ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মেয়র আইভীও এমনটাই বলেছেন।
