হ্যাটট্রিক তথা তিন বলে তিন উইকেট, ক্রিকেটের চমক জাগানিয়া এবং অনিয়মিত ঘটনা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আগের পাঁচ আসরে ছিল দুটি হ্যাটট্রিক। ষষ্ঠ আসরে এসে সেই অনিয়মিত ঘটনাই যেন নিয়মিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাটট্রিক দেখে ফেলেছে বিপিএলের চলতি আসর। হ্যাটট্রিকের ‘হ্যাটট্রিক’ হয়ে গেছে।
এবার টুর্নামেন্টের শুরুতে ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস ইসলাম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। রংপুর রাইডার্সের বিরুদ্ধে নিজের অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের অসামান্য রেকর্ড গড়েন এ স্পিনার। গত ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন ওয়াহাব রিয়াজ। প্রতিপক্ষ ছিল খুলনা টাইটান্স। গতকাল চট্টগ্রামের দর্শকরা আরেকবার দেখলো হ্যাটট্রিকের রোমাঞ্চ। ঢাকা ডায়নামাইটসের আন্দ্রে রাসেল হ্যাটট্রিক করেন চিটাগং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে।
বিপিএলের ইতিহাসে এটি পঞ্চম হ্যাটট্রিক। ক্রিকেট দুনিয়ায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনটা করে হ্যাটট্রিক ছিল আগে দুই বোলারের। গতকাল সেই তালিকায় তৃতীয় বোলার হিসেবে যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল। ভারতের অমিত মিশ্র, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু টাই এর আগে তিনবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ভারতীয় লেগ স্পিনার অমিত মিশ্র’র তিনটি হ্যাটট্রিকই আইপিএলে (২০০৮, ২০১১, ২০১৩ সাল)। অ্যান্ড্রু টাই ২০১৭ সালেই তিনবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন। যার মধ্যে দুইবার বিগ ব্যাশে ও একবার আইপিএলে। আর আন্দ্রে রাসেল তিনটি ভিন্ন টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক করেছেন। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথমবার, ২০১৮ সালে সিপিএলে (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) দ্বিতীয়বার এবং গতকাল বিপিএলে করেছেন নিজের তৃতীয় হ্যাটট্রিক।
জিতলেই শেষ চারে খেলা নিশ্চিত, এমন সমীকরণ নিয়ে হোম ভেন্যুতে টানা তিন ম্যাচ হেরেছিল চিটাগং ভাইকিংস। গতকাল স্থানীয় দর্শকদের সামনে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহিমের দল। স্কোরবোর্ডে যত বেশি সম্ভব রান তোলার চেষ্টা দেখা গেছে দলটির ব্যাটসম্যানদের মাঝে। ইনিংসের শেষ ওভারে আন্দ্রে রাসেলের হ্যাটট্রিক না হলে হয়তো চিটাগংয়ে রানটা আরও বড় হতো। পাঁচ উইকেটে ১৭৪ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা।
মোহাম্মদ শাহজাদ, ইয়াসির আলীর দুটি মাঝারি ইনিংসের পর চিটাগংয়ের হাল ধরেছিলেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। শাহজাদ ২১, ইয়াসির আলী ১৯ রান করেন। দলীয় ৮৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ডেলপোর্ট-মুশফিক তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের ২০তম ওভারে আন্দ্রে রাসেলের হ্যাটট্রিকের শিকার হন মুশফিক, ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকা। ওভারের প্রথম বলে মুশফিক ক্যাচ দেন শুভাগত হোমের হাতে। তিনি ২৪ বলে ৪৩ রান করেন। প্রান্ত বদল করে স্ট্রাইকে আসা ডেলপোর্ট ফিরেন দ্বিতীয় বলে। তিনিও একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন। ডেলপোর্ট ৫৭ বলে ৭১ রান করেন। শেষ ওভার বলেই কিনা হ্যাটট্রিক বলেও স্থির থাকতে চাননি শানাকা (০)। মিজানুর রহমানের ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরেন এ লঙ্কান অলরাউন্ডার। তাতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসেন আন্দ্রে রাসেল।
ক্যারিবীয়ান এ অলরাউন্ডারের হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাস শেষ অব্দি উত্সবে রূপ নিতে পারেনি। কারণ ম্যাচ শেষে হারের হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তার দল ঢাকা ডায়নামাইটসের। বোলিংয়ে হ্যাটট্রিকের পর ব্যাটিংয়েও ২৩ বলে ৩৯ রান করেছিলেন আন্দ্রে রাসেল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। টানা চার ম্যাচ হেরেছে ঢাকা।
বিপিএলের যত হ্যাটট্রিক
বোলার দল সাল
মোহাম্মদ সামি দুরন্ত রাজশাহী ২০১২
আল-আমিন হোসেন বরিশাল বুলস ২০১৫
আলিস ইসলাম ঢাকা ডায়নামাইটস ২০১৯
ওয়াহাব রিয়াজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০১৯
আন্দ্রে রাসেল ঢাকা ডায়নামাইটস ২০১৯
