বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ তিনটি র্যাংকিংয়েই প্রথম সারিতে ড্যাফোডিল

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ২১:১২

মো. আনোয়ার হাবিব কাজল

 

যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিপক্কতার বিষয়টি সময় সাপেক্ষ তথাপি মাত্র উনিশ বছর বয়সেই (২০০২-২০২১) সবাইকে অবাক করে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদেণ্ডের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা র্যাংকিংয়েই একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এরমধ্যে দুটি র্যাংকিংয়ে তো রীতিমতো শীর্ষ অবস্থানেই রয়েছে। র্যাংক দুটি হচ্ছে টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং এবং ইউআই গ্রিনমেট্রিক্স র্যাংকিং। এছাড়া কিউএস এশিয়া র্যাংকিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে ৪র্থ অবস্থানে। এতসব সাফল্যের পিছনে রয়েছে এর সর্বাধূনিক প্রযুক্তি নির্ভর যুগোপযোগী ও মান সম্মত শিক্ষা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচষ্টা আর কর্তৃপক্ষের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সর্বাধূনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি। তাইতো দীর্ঘ এক বছরের ও বেশী সময় ধরে লক ডাউনের কারনে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। 

বাংলাদেশের যে সেক্টরটি এখনও লকডাউনের মুখোমুখি তা হল সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। অনলাইন কার্যক্রমের গতির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ এ ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠতে প্রণান্তকর চেষ্টা করছে। সব বাধা বিপত্তি এবং প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে যে প্রতিষ্ঠান তার নাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ডিআইইউ যে শক্তিশালী টুলসটি ব্যবহার করছে তা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম (বিএলসি)।

অতিসম্প্রতি প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে টিন এইজড ইউনিভার্সিটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। সারা বিশ্বের ১১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে এই র্যাংকিংয়ে, যার মধ্যে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৩০১ থেকে ৪০০ তালিকার মধ্যে। এই অবস্থান বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম।

জাতিসংঘ নির্ধারিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতে এ র্যাংকিং করা হয়। গুণগত শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে থাকা বিশ্বের ৯৬৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশের জন্য ড্যাফোডিলের এ সাফল্য সত্যিই এক অভূতপূর্ব অর্জন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই জ্ঞানার্জনের সংস্কৃতির বিকাশ, শিক্ষার দর্শন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই র্যাংকিং সেই চেষ্টারই স্বীকৃতি। টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিংয়ের মতে, এ বছর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই র্যাংকিং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রীক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একসঙ্গে কাজ করা ও আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাকে ইঙ্গিত করে।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বরে প্রকাশিত ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে টানা ৪র্থ বারের মতো প্রথম স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে। র্যাংকিংয়ে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৮১তম, যেখানে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডের ওয়াগেনিংগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ছয়টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ র্যাংকিং প্রস্তুত করা হয়। মানদণ্ডগুলো হচ্ছে: অবকাঠামো (১৫%), শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন (২১%), আবর্জনা (১৮%), পানি (১০%), পরিবহন (১৮%) এবং শিক্ষা (১৮%)।

পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে এ র্যাংকিং তৈরি করা হয়। গত বছর সারা বিশ্ব থেকে ৯১২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে গ্রিনমেট্রিক র্যাংকিংয়ে।

এছাড়া গত ২৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখে প্রকাশিত কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। কিউএস (কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং তালিকায় দেখা যায়, অসাধারণ সাফল্য ও উদ্যোগের ভিত্তিতে মূল্যায়নে এশিয়ার সেরা ৪৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান চতুর্থ।

নিয়োগদাতাদের মূল্যায়নে এশিয়া অঞ্চলের সেরা ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৪৪ তম। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় (২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত) হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান শুধু বিশ্ববিদ্যালটিরই অসামান্য অর্জন নয় বরং বাংলাদেশের জন্যও তা গৌরবের।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস (কিউএস) প্রতিবছর মোট ১১টি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সারা পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক র্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে। এগারোটি মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে: প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাফল্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক, গবেষণা প্রবন্ধের সাইটেশন, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপাত, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিনিময়ের হার ইত্যাদি।

লেখক :মো. আোনায়ার হাবিব কাজল

ঊর্ধ্বতন সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ)

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি