ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের দাফন অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাপক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গতকালও ইসরাইল বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। হামাস এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলের দিকে রকেট ছুড়েছে, যাতে ছয় ইসরাইলি আহত হয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার
সোমবার রাতে ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমের উদ্দেশে রকেট ছুড়লে সহিংসতা বাড়তে থাকে। এর জবাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের উদ্দেশে বিমান হামলা করে। গাজায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিমান হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ইসরাইলি সেনারা বলছেন, হামাস গোষ্ঠীর অন্তত তিন জন সদস্য এ সময় নিহত হয়েছেন। সোমবার জেরুজালেমে সংঘর্ষে কয়েক শ ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার পর হামাস পালটা হামলার হুমকি দিয়েছিল।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস রেডলাইন অতিক্রম করে ফেলেছে এবং ইসরাইল এর জবাব দিয়েছে শক্তভাবে। গত কয়েক দিনে জেরুজালেমে যে সহিংসতা হচ্ছে, সেটা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। তবে ইসরাইলি পার্লামেন্টের এমপি সামি আবু শেহাদেহ বলেছেন, ক্ষমতায় থাকতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যে কোনো কিছু করতে ইচ্ছুক। এজন্য তিনি উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন।
ইসরাইলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার চলমান সংঘর্ষ আরো বড় ধরনের সহিংসতা উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং ইহুদিদের পবিত্র স্থান টেম্পল মাউন্টে ফিলিস্তিনিদের যেতে যে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছে ফিলিস্তিনিরা। মঙ্গলবার ভোরে ফিলিস্তিনে রেড ক্রিসেন্ট বলেছে যে, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে সাত শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ্যাান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই অতিদ্রুত রকেট হামলা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, দুই পক্ষকেই শান্ত থাকতে হবে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি একই রকমভাবে বলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সংঘর্ষের ব্যাপারে গুরুতরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব টুইট করে বলছেন, রকেট হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন, পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে গুরুতর সংঘর্ষ হচ্ছে, যা তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, গাজা থেকে ইসরাইলের বেসামরিক লোকের ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক হলেও কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, জাতিসংঘ, মিশর ও কাতার যারা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করে, তারা সবাই চেষ্টা করছে এই লড়াই থামাতে।
