জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া কে. এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুর মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ৭ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন এবং চলতি মাসের ১১ তারিখে এস.এস.সি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা প্রসঙ্গে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নিয়ামত আলী আরও একটি অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৬ মাস আগে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে সাইদুর রহমান মোল্লা সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটে আসছে। অভিযোগে বলা হয়, কাউকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অংশগ্রহণে করতে হলে অবশ্যই তার সন্তানকে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র হতে হবে। কিন্তু সাইদুর রহমানের ছেলে সাভারের ব্যাংক কলোনীর ল্যাবরেটরী স্কুলের নিয়মিত ছাত্র। অথচ প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজশে তাকে অত্র বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয়। এভাবে তিনি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হলে পরবর্তিতে তাকে কৌশলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের তহবিলে ১৬ লাখ টাকা জমা ছিল। সভাপতি বিভিন্ন অজুহাতে সেখান থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন। বর্তমানে তহবিলে মাত্র ২ হাজার ৬শ’ টাকা জমা আছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের দুটি দরজা ও পুরাতন ৪০/৫০টি টিন তার নির্মাণাধীন ঘরে ব্যবহার করেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন দোকানঘর থেকে আদায়কৃত ৭২ হাজার টাকা তহবিলে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাত্ করেন। মোহনা লাইব্রেরী নামে এক মালিকের সাথে চুক্তি করে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের গাইড বই বিদ্যালয়ে পাঠ্য করে সমুদয় টাকা আত্মসাত্ করেন। বিদ্যালয়ের পাশের একটি পুকুর ইজারা দিয়ে সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা আত্মসাত্ করেন। শিক্ষকরা সভাপতির এসব দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তিনি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন, এমনকি দু’জন সিনিয়র শিক্ষককে বিদ্যালয়ের বেতন ভাতার অংশ দেওয়া বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ১২০০-১৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।
এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা। এছাড়া বিদ্যালয়ের ফান্ডে থাকা টাকার হিসাব আমি জানি না। টাকার বিষয়টা জানেন সভাপতি। আর কত টাকা কোথায় খরচ হবে সেটা দফতরি জানে। সেই সব হিসাব-নিকাশ করে। এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সরকারি নিয়ম অনুসারেই টাকা নিচ্ছি।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইদুর রহমান মোল্লাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্যই টাকা খরচ হয়েছে। সম্পূর্ণ টাকা এখনো খরচ হয়নি। এ বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
