চোখ ধাঁধানো তুর্কি লাইট নজর কেড়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। মেলায় তুর্কি প্যাভিলিয়নে হাতে তৈরি এসব লাইটের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে হাতের ডান দিকে গলিতে তুর্কি প্যাভিলিয়নে এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। টেবিল ল্যাম্প থেকে শুরু করে ঝাড়বাতি সবকিছুতে রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। লাইটের উপর আয়না বসিয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। আকার এবং নকশাভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। এসব লাইটের দাম ১২শ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। লাইটের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে তুর্কি বিভিন্ন ধরনের শোপিস। এগুলোর দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু। অন্যদিকে এখানকার একটা আয়নার দাম ৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তুরস্কের এ প্যাভিলিয়নটিতে রয়েছে দেশটির ঐতিহ্যবাহী নানা অলঙ্কার। এসব অলঙ্কার কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ৩শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন বিক্রেতারা।
গতকাল মেলার এ প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে প্যাভিলিয়নটি। সবার কেনার সামর্থ্য না থাকলেও, যাদের চোখ পড়ছে এসব লাইটের উপর তারাই ঢুঁ মারছেন এখানে। কেউ কেউ আবার ছবি তুলছেন। প্যাভিলিয়নটির অন্যতম আকর্ষণ এভিল আই অর্থাত্ শয়তানের চোখ। কথিত আছে, ‘পাথর দিয়ে তৈরি গোলাকৃতি এসব চোখ ঘরে ঝুলিয়ে রাখলে খারাপ নজর থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’ প্যাভিলিয়নটির কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, তুরস্কের নানা রঙের ঝাড়বাতি, আয়না, অলঙ্কার, তৈজসপত্র এখানে আছে যা সচরাচর বাজারে পাওয়া যাবে না। লাইটগুলো ক্রিস্টাল এবং আয়নার সংমিশ্রণে হাতে তৈরি করা হয়েছে।
মেলার আশপাশ থেকে ছিনতাইকারী
চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার
ওরা বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে ঘোরাঘুরি করে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা মূল্যবান জিনিস কিনে বাইরে বের হলে তাদের অনুসরণও করে ওরা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ফুটপাত অথবা শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতে ওরা অবস্থান নেয়। এরপর সুযোগ বুঝে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এমনই একটি ছিনতাইকারী চক্রের ৬ সদস্যকে মঙ্গলবার রাতে বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশের এলাকা থেকে র্যাব গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মেহেদী হাসান, ফরিদুল, আসলাম তালুকদার, শাহালম শেখ, বাবু মিয়া ও রুবেল। তাদের কাছ থেকে ১টি ছুরি, ৪টি ব্লেড, ১টি পেন্সিল কম্পাস, ১ টি ডেগার ও ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব-২ এর এএসপি মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত বাড্ডা, আব্দুল্লাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করে থাকে। তবে বাণিজ্য মেলায় আসা দর্শনার্থীর মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে অবস্থান নেয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটিয়েছে তারা।
