চট্টগ্রামে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে প্রধান সড়কের মাঝখানে সুপারশপ ও দোকান নির্মাণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনার মুখেও অনড় অবস্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ফ্লাইওভারের পরিচালনা ব্যয় মেটাতে এসব দোকান নির্মাণের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন এটা ‘উদ্ভট’ চিন্তা ছাড়া কিছুই নয়। ইতোমধ্যে দোকান ও সুপারশপগুলোর বরাদ্দ সম্পর্কে গত ২৪ ডিসেম্বর স্থানীয় একটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংস্থাটিকে সিটি করপোরেশন ও সিএমপি’র পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘সড়কের মাঝখানে দোকান দেওয়ার চিন্তা আত্মঘাতী। এসব দোকানে ক্রেতারা যেতে পারবেন না। দুর্ঘটনা ঘটবে। যানজট সৃষ্টি হবে। এটা একেবারেই ‘উদ্ভট’ একটা চিন্তা। সিটি করপোরেশন ওখানে কোনো দোকানকে ট্রেড লাইসেন্স দিবে না। সিডিএ-কে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হবে।’
যদিও প্রতিমাসে শুধু ফ্লাইওভারের লাইট জ্বালানোর জন্যই দশ লাখ টাকা বিদ্যুত্ বিল আসে জানিয়ে চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের দাবি, ‘ফ্লাইওভারের নিচে যাতে যানজট না হয় সেভাবে নকশা করেই দোকানগুলো নির্মাণ করা হবে। পার্কিংয়ের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। সড়ক দিয়ে যাতে মানুষ যাতায়াত না করে, সে জন্য ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে।’
সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের র্যাম্পের নিচে আটটি, এর বিপরীতে সানমার ওশান সিটির সামনে ছয়টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। এছাড়া নগরের মুরাদপুর সড়কের মাঝখানে, ষোলশহর বেবি সুপার মার্কেটের সামনে এবং লালখানবাজার সড়কের মাঝখানে ফ্লাইওভারের নিচে একটি করে মোট তিনটি সুপারশপ হবে। র্যাম্পের নিচে প্রতিটি দোকান হবে ১৩২ বর্গফুট ও সড়কের মধ্যে ফ্লাইওভারের নিচে সুপারশপগুলো হবে সাত হাজার বর্গফুটের বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ফ্লাইওভারটি সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ব্যয় ফেরত দিতে হবে না। ব্যক্তি কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থে দোকানগুলো তৈরি করা হতে পারে।’
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের র্যাম্পের কারণে এমনিতেই সড়কের প্রশস্ততা কমে গেছে। দোকান নির্মাণ হলে পুরো সড়ক অকেজো হয়ে যেতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও অকার্যকর হয়ে পড়বে।’
