নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪০

ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রাজনৈতিক উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য এবং জার্মানিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাভারে চার দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলন-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সাভারের খাগানে ব্র্যাক-সিডিএমে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০০ বিদেশিসহ বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, চিকিত্সকবৃন্দসহ প্রায় ১৫০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হার্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, একটি দেশের সমৃদ্ধি নির্ভর করে জনগণের গুণগত শিক্ষা, উন্নত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থার ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৭% লোক অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এ ছাড়া ১২% লোক ক্যান্সার, ৩০% লোক হূদরোগ, ৩% লোক ডায়াবেটিস এবং ১২% লোক অন্যান্য রোগে মারা যায়। তিনি বলেন, এসব রোগের নির্ণয় এবং চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সরকারের একার পক্ষে এসব রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে করে তৃণমূলের জনগণ এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। তিনি হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা, স্বাস্থ্য বিমা, চিকিত্সার জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংগঠন এবং সর্বোপরি জনগণকে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— অষ্ট্রেলিয়ার ফ্লাইন্ডারস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান বাউম, পিএইচএম- বাংলাদেশের চেয়ারপারসন জাকির হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই অনুষ্ঠিত প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিএইচএমের গ্লোবাল কো-অর্ডিনেটর ব্রিজিত লায়ড। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এল সালভাদরের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. ইডোরাডো এসপিনোযা। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার উয়েস্টার্ন কেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড স্যান্ডারস এবং ইটালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চায়রা বোডিনি।

সম্মেলনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অধিবেশন ছাড়াও উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বৈশ্বিক কাঠামো, এসডিজি: চলতি অন্যায্য ব্যবস্থা আর কত, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দখলদারিত্ব, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদি ইস্যুতে প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।