রাজধানীর ইস্কাটনে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আলোচিত ওই হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে বলা হয়। গতকাল বুধবার ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম জনাকীর্ণ এজলাসে এ রায় ঘোষণা করেন। রনিকে দণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশা চালক ইয়াকুব আলী আহত হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল আবদুল হাকিম ও ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, রনির গাড়ি থেকে করা গুলিতেই ওই ঘটনা ঘটে।
রায়ে বিচারক বলেন, ঘটনার সময় আসামি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার মেয়ে হাসপাতালে থাকায় বিষণ্নতায় ভুগছিলেন, ওই সময় স্বাভাবিক ছিলেন না। মদ্যপান করে নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি লাইসেন্সবিহীন পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। তিনি জানতেন গুলি করলে তারা মারা যাবেন। এ ঘটনায় তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু তার (রনি) শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
রায় দেওয়ার আগেই রনিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৫ সালের ২ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে। মামলায় রনির ওই হাজতবাসের মেয়াদ প্রদত্ত দণ্ড থেকে বাদ যাবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। কারণ সাক্ষ্য দিতে এসে সাক্ষীরা কখনো বলেননি যে রনি গুলি ছুড়েছেন। তবে এ কথা তারা ম্যাজিস্ট্রেট ও আইওর কাছে বলেছে। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য ও রায়ের মধ্যে বৈপরীত্য দেখছি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জাহিদ হোসেন বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, কল লিস্ট ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।
আদালতে রনির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কাজী নজীবউল্যাহ হিরু। রায় ঘোষণার আগে ও পরে ঘটনার ভিকটিম অটোরিকশাচালকদের পরিবারের সদস্য মামলার বাদীসহ কাউকে পাওয়া যায়নি।
