মাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশে ১ মিনিটের নীরব প্রতিবাদ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৮

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে সারাদেশে এক মিনিটের নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাবেন। এমনকি বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহনও নির্দিষ্ট সময়ে থেমে গিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবে। শুধু তাই নয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সুরক্ষা সেবা) অতিরিক্ত সচিব আতিকুল হক। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপরই দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদক নির্মূলের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের জন্য তিন মেয়াদে অ্যাকশন প্ল্যান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর সমূলে মাদক উত্পাটনে জনসচেনতা বাড়াতে সারাদেশে এই এক মিনিটের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেয়ার পর গত ৮ জানুয়ারি তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমরা মাদকের বিষয়ে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকতে চাই। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।

আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী একই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। তাই মাদক দমনে সবাইকে সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আতিকুল হক বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করব। পাশাপাশি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, সচেতনার পাশাপাশি আমরা মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা (এক বছর), মধ্য মেয়াদি (দুই বছর) ও দীর্ঘ মেয়াদি (পাঁচ বছর) অ্যাকশন প্ল্যান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ওই প্ল্যান অনুয়ায়ী ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতর কাজ শুরু করেছে।

মাদকাসক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের মধ্যে সপ্তম। বাংলাদেশে বর্তমানে ৭৩ লাখ মাদকাসক্ত সারা বাংলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই তরুণ। মাদকাসক্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।