>> মামুনুর রশিদ রাজিব
পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির সমন্বয়ে মানুষ এগিয়ে চলে। হোঁচট খায়, তবুও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে এগিয়ে যায়। এরকম তরুণদের একজন মো. রুবেল মিয়া নাহিদ।
বর্তমানে তরুণরা সরকারি চাকরিকে ক্যারিয়ারে প্রাধান্য দেয়, আবার কেউ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখে— ঠিক তখন স্রোতের বিপরীতে চলা রুবেল ২০১৭ সালে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। স্বপ্ন দেখেন নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ার।
ক্যারিয়ারের শুরুতে একটা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার পাশাপাশি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের বীজ বপন করেন। গড়ে তোলেন ‘ই-গ্যালারি’ ও ‘আমকো’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এক সময় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠান দুটি। অথচ ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেন তিনি। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটিকে পুনরায় দাঁড় করান তিনি। তার এই সাফল্যে অনুপ্রেরণা ছিল তার মা।
তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়লেও সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করার ইচ্ছায় ২০১৬ সালে ছাত্রাবস্থায় প্রবীণদের সেবার জন্য প্যারেন্টস এজিং ফাউন্ডেশন (পিএএফ) নামে একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সংগঠনটির ব্যানারে অসহায় প্রবীণদের মানবসেবা দেওয়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার মানুষকে সাহায্য করেছেন। ২০১৭ সালে প্রথম ইউএনডিপি থেকে ‘বেস্ট ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ এবং একই বছর ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ অর্জন করে পিএএফ। এছাড়াও তিনি ‘হাতেখড়ি ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, যা দক্ষিণ উপকূলের জেলে পরিবারের সন্তানদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ‘হাতেখড়ি’ ২০২০ সালে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ অর্জন করে। এছাড়াও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি।
প্রতিকূলতাকে জয় করে উদ্যোক্তা হয়ে একদিকে যেমন অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলে সমাজের অসহায় অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। হার না মানা মনোভাবই আজ তাকে তার দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে সফল উদ্যোক্তাদের কাতারে দাঁড় করেছে।
