>> শাহরিযার নাসের
গত বছরের মার্চে দেশে আঘাত হানে করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে যেন কপোকাত গোটা দেশ। এ বছরের মার্চ থেকে দেশে আবার ভয়াল রূপে আঘাত হেনেছে ভাইরাসটি। গত কয়েকদিন কিছুটা কমলেও আবারও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশের এই সঙ্কটময় সময়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো তরুণ উদ্যোক্তাদের একজন তানভীর মুরাদ। তানভীর মুরাদের সাবেক বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কেন্দ্র হিসেবে এখানে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় গত বছরের ১১ মে। বেশকিছু সমস্যা নিয়েই কেন্দ্রটিতে শুরু হয় নমুনা পরীক্ষা। শুরুর দিকে সঙ্কট কম থাকলেও ধীরে ধীরে সঙ্কট বাড়তে থাকে। বিশেষ করে কেএন নাইন্টিফাইভ মাস্ক, পিপিই, ফেইসশিল্ডসহ বেশকিছু সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবের বিষয়টি জানতে পেরে নিজ উদ্যোগে তিনি ওই কেন্দ্রের জন্য ইউএসএ স্ট্যান্ডার্ড ৪০০ ইউনিট কেএন নাইন্টিফাইভ মাস্ক, ১০০ ইউনিট ফেইসশিল্ড, ৫০০ ইউনিট সার্জিক্যাল মাস্ক, ১০ ইউনিট পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সুরক্ষা সামগ্রী কুরিয়ার করেন। গত বছর জুলাইয়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হয় বন্যা। করোনা ও বন্যায় সর্বহারা এসব মানুষকে সাবলম্বী করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হেল্প বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে বগুড়ায় ছাগল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি। এবছর আবারও মার্চের শেষদিক থেকে করোনা আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। চলছে করোনার দ্ব্বতীয় ঢেউ। আর এ দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নির্মাণ শ্রমিক, দিন মজুর, রিকশাচালকদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শুভসংঘের’ মাধ্যমে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। সেইসঙ্গে রমজান মাসে অসহায় ও এতিমদের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।
দেশের মানুষের ঋণ শোধ করতে আমৃত্যু দেশের মানুষের বিপদে পাশে থাকতে চান তানভীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ। তাই চেষ্টা করেছি অসহায়দের জন্য কিছু করার।’
