ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে দুই দিন বয়সী এক শিশুকে চুরির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার দাবি, জন্মের আগেই গর্ভস্থ সন্তানকে বিক্রির চুক্তি করেন প্রসূতি জোসনা বেগম! বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সোনিয়ার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জোসনা। পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলের জন্ম দেন জোসনা। ছেলেটির নাম রাখা হয় মুসা। এখন জোসনা গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় পানি দেওয়ার কাজ করতেন। সেখানে তার সঙ্গে সোনিয়ার পরিচয় হয়। তখন জোসনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সোনিয়ার ভাষ্য, ওই সময় তার গর্ভের সন্তান ৫০ হাজার টাকায় বিক্রিতে সম্মত হন জোসনা। পরে একসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সোনিয়া তাকে চিকিত্সার জন্য তিন হাজার টাকা দেন। কিন্তু সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর জোসনা বলছেন, টাকা ফেরত দেবেন, সন্তানকে দেবেন না।
পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন সোনিয়া। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জোসনা একসময় তার বাসায় কাজ করতেন। গতকাল জোসনা তাকে কল করে হাসপাতালে আসতে বলেন। সে কারণেই তিনি সকালে চলে আসেন। সারাদিন হাসপাতালেই ছিলেন। সন্ধ্যায় গাইনি ওয়ার্ডে জোসনার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে আনসার সদস্যরা তাকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
জোসনা তার দ্বিতীয় স্বামী টুকু মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরের টঙ্গীর রেলস্টেশন এলাকায় থাকেন। তার প্রথম পক্ষের এক সন্তানকে এতিমখানায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
