বগুড়ার তিনটি আসনে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী!

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪২

ভোটের অঙ্কে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার তিনটি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। গত বুধবার বিকালে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) এবং বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াত মনোনীত তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ দল ঘোষণা করায় স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করার কৌশল নিয়েছে দলটি।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা জামায়াতের সম্ভাব্য তিন প্রার্থী হলেন— বগুড়া-২ আসনে জামায়াতের সাবেক এমপি মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৪ আসনে কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা অধ্যক্ষ তায়েব আলী এবং বগুড়া-৫ আসনে শেরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দবিবুর রহমান।

বগুড়া-২ আসনে  মোট ভোটার  ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ জন। এখানে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির (জাপা) শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বগুড়া-৪ আসনে  মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪১ জন। এখানে  বর্তমান এমপি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর একেএম রেজাউল করিম তানসেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট থেকে বিএনপির মোস্তফা আলী মুকুল ১ লাখ ৩১ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে এমপি হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে এ আসন জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু জাসদের প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেন নির্বাচনে থেকে যান। নির্বাচনে জাপার প্রার্থী নুরুল আমিনকে হারিয়ে রেজাউল করিম সাংসদ হন।

বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার  ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮৯ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত চারবার এমপি হন বিএনপির  জিএম সিরাজ। ‘সংস্কারপন্থি’দের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায়  ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে শেরপুর উপজেলা বিএনপি নেতা জানে আলম খোকাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে হাবিবর রহমান (আঃলীগ) এমপি নির্বাচিত হন।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির ও কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার তিনটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জামায়াতকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করায় দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকলেও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিজ জেলায় জামায়াত আলাদাভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের এ নেতা বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবেই জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে এখনো বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত না হওয়ায় জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে বগুড়ার এমন তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেভাবে নির্দেশ দেবে সেভাবেই মাঠ পর্যায়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার কিংবা নির্বাচনে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত হবে।