সমকালীন

জীবন কাটে যুদ্ধ করে!

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:০৯

 

লিয়াকত হোসেন খোকন

করোনায় বদলে গেছে মানুষের জীবন। হারিয়ে গেছে অনেক কিছু। আজ প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি সময় ধরে ঘরে বন্দি। আমার ছেলে শিক্ষকতা করে প্রতি মাসে যে টাকা আয় করত, করোনার কারণে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বক্ষেত্রের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর চরমভাবে আঘাত হেনেছে করোনা মহামারি।

করোনা কেড়েছে বহু শিশুর শৈশবও। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশুকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে আজ উপার্জনের। এই দলেই পড়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বাবু। সে থাকে মা-বাবা-বোনের সঙ্গে, ভাড়া বাড়িতে। ভোর হলেই তাকে সাইকেল নিয়ে ছুটতে হয় নদীর কাছাকাছি কোনো এক জঙ্গলে। খালার সঙ্গে জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করতে হয় পুদিনা পাতা, হেলেঞ্চা শাক নয়তো ঢেঁকি শাক। তারপর পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সেই শাক বিক্রি করার দায়িত্ব বাবুর ঘাড়েই। রোজগারও হয়। দিনে ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। সেই অর্থ তুলে দেয় মায়ের হাতে। সাইকেলে ঘুরে ক্লান্ত শরীরে আর পড়তে বসা হয় না তার। প্রতিদিনকার এই রুটিনে প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায়। স্কুল বন্ধ থাকায় ন্যূনতম লেখাপড়াও হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতির আগে তার বাবা আইসক্রিম বিক্রি করে ভালোই আয় করতেন। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ায় আইসক্রিম বিক্রিও বন্ধ হয়ে গেছে।

শুধু এক বাবু নয়, এরকম বহু বাবু আছে—যাদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আর আমি? জানলার পাশে বসে অসহায়ের মতো দিন পার করছি। করোনা মহামারি সবার জীবন তছনছ করে চলেছে। ঘরে থাকতে থাকতে শরীরে অসুখ কি বাসা বাধছে না! দিন চালানোর পরিস্থিতি কি ঘোরালো করে দিচ্ছে না!