শাওয়ালের ছয়টি রোজার তাত্পর্য

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ১৯:৫৬

করোনার ডেড ফোবিয়ার মধ্যে আমরা মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে পবিত্র মাহে রমজানের ফরজ রোজা আদায় করতে পেরেছি, সে জন্য মহান আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করি। আমরা সুখে-দুঃখে বালামুসিবতে যে অবস্থায় থাকি না কেন, সব হালতে একমাত্র মহান আল্লাহর ওপর সমভিব্যাহারে দৃঢ়চিত্তে ভরসা রাখতে হবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের পূর্ণাঙ্গ হক আদায়সহ শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য। মাহে রমজানের রোজার শিক্ষা থেকে আমরা এতটুকু শিখতে পেরেছি যে, তাকওয়া অর্জন করে, পরিপূর্ণভাবে হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি-হানাহানি পরিত্যাগ করে আমরা ভাই ভাই হয়ে গেছি। রমজান আমাদের শিখিয়েছে বলে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে পেরেছি। দ্ব্যর্থতা নিরসনে আমরা অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যের শক্তি সঞ্চার করতে পেরেছি এবং আগামী ১১ মাস আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যথাযথ মেনে চলতে হবে।

এক মাস রোজা রেখেই যেন বান্দা রোজাকে ভুলে না যায়, সে জন্য প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখের রোজা, আশুরার রোজা, ৯ জিলহজ আরাফার দিনের রোজাসহ অন্যান্য নফল রোজার বিধান রেখেছে ইসলাম। ফরজ নামাজের কমতিগুলো পোষাতে যেমন নফল নামাজ রয়েছে, তেমনি ফরজ রোজার পরও শাওয়ালের সুন্নত রোজা রয়েছে। এই নফলগুলো ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রোজাদার যদি অনর্থক বাক্যালাপ, কুদৃষ্টি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে না পারে, তাহলে তার রোজার পুণ্য কমে যায়। আর কমতি পুণ্যকে পূর্ণ করতেই শাওয়ালের ছয়টি রোজা।

শাওয়ালের ছয়টি রোজার মাধ্যমে রমজানের রোজার শুকরিয়া আদায় করা হয়। যখন কোনো বান্দার আমল আল্লাহ তাআলা কবুল করেন, তখন তাকে অন্য নেক আমলের তওফিক দেন। আমাদের পূর্বসূরিদের অনেকে রমজানের পর ছয় মাস আল্লাহর দরবারে এ জন্য কাঁদতেন, যেন রমজানে কৃত ইবাদত কবুল হয়। ইবাদত কবুল হওয়ার আলামত হলো আগের অবস্থার উন্নতি হওয়া। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘মৃত্যু পর্যন্ত তোমার রবের ইবাদত করো।’ (সুরা : আল-হিজর, আয়াত : ৯৯)

রসুলুল্লাহ (স) নিজেও শাওয়ালের রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কিরামদের রাখার নির্দেশ দিতেন। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম : ২/৮২২)

রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হলে মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬টি। আর প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে কোরআনুল কারিমে। তাহলে ৩৬টি রোজার ১০ গুণ হলে ৩৬০টি রোজার সমান (এটি পুরস্কারের দিক থেকে)। অর্থাত্, সারা বছর রোজার সমান সওয়াব হবে। হজরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’ (নাসায়ি :২/১৬২)

শাওয়ালের ছয়টি রোজা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সুন্নত। মাসের শুরু-শেষ কিংবা মাঝামাঝি—সব সময়ই রাখা যায় এ রোজাগুলো। একনাগাড়ে অথবা মাঝে ফাঁক রেখে পৃথকভাবেও রাখা যায়। শাওয়াল মাসে শুরু করে এই মাসেই শেষ করলেই হলো। তবে ঈদুল ফিতরের পর শাওয়ালের প্রথম দিকে একসঙ্গে ছয়টি রোজা রাখাই উত্তম। আর রমজানের কাজা রোজা থাকলে প্রথমে কাজা রোজা রাখবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা মাহে রমজানের অনুশীলন বাকি ১১ মাস কাজে লাগাব। মহান আল্লাহ আমাদের তার ইবাদত-বন্দেগি করার তওফিক দান করুন। আমিন। ছুম্মা  আমিন।

lলেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা