অণুগল্প

ছবির কথা মনে পড়ে

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ০০:১৯

 

ছবির কথা খুব মনে পড়ে। সন্ধ্যার সময় ওরা আসত। তহুরা খালার সঙ্গে আসত। নানির বাড়ির লাল বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে বসতাম আমরা। পুতুলের বিয়ে হবে, তারই আয়োজন। একবার ছবি আমার জন্যে দুটো পুতুল নিয়ে এসেছিল। খুব সুন্দর পুতুল। ছবি বলল, তোর পছন্দ হয়েছে? আমি বললাম, খুব পছন্দ হয়েছে। নানির বাড়ির পাশে একটা দর্জিবাড়ি ছিল। আনিস নানা ছিলেন দর্জি। সেই আনিস নানা নানারকমের রঙিন কাপড় দিতেন আমাকে। পুতুল সাজাতে কোনো অসুবিধা হতো না।

নানির বাড়ির লাল বারান্দাতে চাঁদের আলো পড়ে ঝিলমিল ঝিলমিল করত। খুব মজা লাগত। আমি আর ছবি আবোল তাবোল গান গাইতাম। আমরা পুতুল সাজাতে সাজাতে গান গাচ্ছিলাম। এমন সময় আতা পাগলা এসে হাজির। আমার ছোট দুই বোন ভয় পেয়ে ঘরের ভেতর চলে গেল। আতা বলল, জোছনার দুই বেটি ভয় পেয়ে ঘরের ভেতর গিয়ে সান্দাইছে। আমি কি বাঘ?

আসলে আমরাও ভয় পেয়েছিলাম। নানি বলল, দ্যাখ আতা বাচ্চাদের বিরক্ত করিস না।

আতা পাগলা বলল, বুজান খুব খিদা পাইছে গো। চারটে ভাত দে খেয়ে চলে যাই।

আতা পাগলাকে নানি এক থালা ভাত দিল। আতা ভাত খেয়ে চলে যাচ্ছিল এমন সময় ঘটল একটা ভয়াবহ ঘটনা। একটা সাপ দেখা গেল। আমরা চিত্কার শুরু করে দিলাম। আতা নানিকে বলল, বুজান একটা লাঠি দে।

নানি একটা লাঠি দিল। পলকের মধ্যে সাপটাকে মেরে ফেলল আতা। আমরা তো অবাক!

আতা বলল, খুব বিষাক্ত সাপ বুজান।

এই সাপ এলো কীভাবে আমরা বুঝতে পারলাম না। আতাই একটা ব্যাগে সাপটাকে ভরে নিয়ে চলে গেল।

তহুরা খালাও বলল, চল ছবি আমরা এবার যাই। রাত হয়ে যাচ্ছে।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছবি চলে গেল তহুরা খালার সঙ্গে। ছবি আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। ছবির সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি। তখন আমাদের একটু দুর্যোগ যাচ্ছিল। আব্বা একটা ট্রেনিংয়ের জন্যে ময়মনসিংহে ছিলেন। আমরা চলে গেলাম দাদাবাড়িতে। আমাদের অনেকদিন দাদাবাড়িতে থাকতে হয়েছিল। ট্রেনিং শেষে আব্বা আমাদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থেকে গেলেন। কয়েক মাস পর আব্বার সরকারি চাকরি হলো। আমরা চলে গেলাম বরিশালে।

ছবির কথা ভুলতে পারি না। ছবির বাবা রাজশাহী জেলখানার ডাক্তার ছিলেন। আমার আকর্ষণ ছিল চোর-ডাকাত দেখা। তাই ওদের বাসায় যাওয়াটা জরুরি মনে হতো। জানি না ছবিরা এখন কোথায় আছে, অথবা আদৌ পৃথিবীতে আছে কি না?