ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ
অর্থনীতিবিদ
আসছে বাজেটে জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। করোনার এই সংকটকালীন সময়ে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ইত্তেফাককে বলেন, সবার আগে বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবিকার উত্সগুলোতে বিশেষ নজর দিতে হবে। গত বছরই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি দেখা যায়নি। করোনার এই অভিঘাত মোকাবিলার জন্য জাতীকে সুসংগঠিত করতে হবে। এজন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ না বাড়লে এটি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, করোনা শুধু স্বাস্থ্য খাতকেই আক্রান্ত করেনি, শিক্ষা খাতেও ব্যাপক ক্ষতি করছে। দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ায় সমাজে বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, এর পরেও বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এবং গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সব শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষার মতো সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে শিক্ষায় ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। করোনার এই প্রভাব শিক্ষার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে। এই ক্ষতি কাটাতে বড় পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। এজন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, গতানুগতিক বরাদ্দ দিয়ে এই ক্ষতি কাটানো সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। করোনার প্রভাব কাটিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ঘুরে দাঁড়াতে স্থানীয় সরকারকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করেন তিনি।
প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জীবিকার জন্য মাইক্রো এবং ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে আড়াই থেকে ৩ কোটি মানুষ রয়েছে যারা এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত। সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও তাদের বেশির ভাগ এই সুবিধাবঞ্চিত। মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তারা ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে আসছে বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকার আলাদা তহবিল রাখার সুপারিশ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। করোনার প্রভাব কাটিয়ে দ্রুত অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেটে গতানুগতিক কিছু বিষয় থাকে। বরাদ্দ দেওয়া, আয়-ব্যয়ের হিসাব সব সময় থাকবে। কিন্তু করোনার এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে।
