প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষকে সুরক্ষা প্রদানে সম্ভাব্য সবকিছুই সরকার করছে। দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে প্রযুক্তির ব্যবহার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করলেও জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘আরো একটা ঘূর্ণিঝড় আসছে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তির কারণে অনেক আগে থেকেই জানতে পারি। আর এসব বিষয়ে যথেষ্ট সতর্কতা আমরা ইতিমধ্যে নিতে শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ আমরা সতর্ক থাকব এবং ঝুঁকি হ্রাস করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২২৫টি স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এদিন দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১১০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র ও পাঁচটি মুজিব কিল্লার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একই সঙ্গে ৫০টি মুজিব কিল্লার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বান্তকরণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেননা, সম্পদ চলে গেলে সম্পদ পাওয়া যায়, কিন্তু জীবন চলে গেলে আর পাওয়া যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বেশি প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, বজ পাত, ভূমিধস অথবা ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড সবকিছুতেই মানুষকে রক্ষা করা বা সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা করণীয় সে ব্যবস্থাগুলো আমরা করে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এটা বদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। তাছাড়া, বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও আসে। সব মোকাবিলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা এগিয়ে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সক্ষমতা তা আজকে সারা বিশ্বে সমাদৃত। যে কারণে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারে’র কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটা ছোট্ট ভূখণ্ডের মধ্যে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আমরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছি। সেকারণে আমরাদের ওপর দায়িত্ব পড়েছে সারা বিশ্বে কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যেতে পারে তার পরিকল্পনা নেওয়ার, বাস্তবায়ন এবং মনিটরিং করার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ নানা সময়ে নানাভাবে আসে সে বিষয়ে কাজ করার জন্যই এই গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং সারাবিশ্ব এখন বাংলাদেশকে দুর্যোগ মোকাবিলায় একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ইতিমধ্যেই আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছি অগ্নিনির্বাপণ বা ভূমিকম্প, ভূমিধস হলে সেখান থেকে মানুষকে রক্ষা করা এবং তাদের উদ্ধার কাজ কীভাবে পরিচালনা করা যায় সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। আল্লাহর রহমতে আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নতি হয়েছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ভিডিও চিত্র ও প্রদর্শিত হয়। গণভবন থেকে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর সুবর্ণচর, বরিশালের উজিরপুর এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলার উপকারভোগীদের সঙ্গে পরে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।
