সজনে আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত গাছ। সজনে ৩০০ প্রকার ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহূত হয়। সজনেতে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। সজনের মূল, ছাল, ফল, ফুল, বীজ সবকিছুতেই আছে ওষুধি গুণ। সজনে পাতার গুঁড়ারও বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে। এবার তবে জেনে নেওয়া যাক সজনের কিছু ভেষজ গুণাগুণ—
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে :সজনে ডাটা দেহের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই সজনে ডাঁটা খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপের চিকিত্সায় সজনের পাতাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সজনের পাকা পাতার টাটকা রস দু’বেলা খাবারের ঠিক আগে ২-৩ চা চামচ করে খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে খাওয়া নিষেধ।
পেটের পীড়ায় :সজনে হজম সমস্যা সমাধানে ব্যাপকভাবে কার্যকরী। বহুকাল আগে থেকে সজনে হজমের সহায়ক খাবার হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। পেটে গ্যাস হলে, বদহজম হলে এবং পেটে ব্যথা হলে সজনের তৈরি তরকারির ঝোল খেলে উপকার মিলে। সজনে পাতার রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে খাওয়ালে শিশুদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়।
রুচি বাড়ায় :সজনে পাতা ভর্তা করে খেলে মুখে রুচি বাড়ে। এর পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে।
ঠান্ডা-জ্বরে :সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। যা এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই ঠান্ডা-জ্বর ও কাশি দূর করতে সাজনার তরকারি, ডাল বা স্যুপ খুবই উপকারী।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে : সজনে মানবদেহে চিনির সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সজনে খুবই উপকারী।
হাড় মজবুত করতে :সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে আয়রণ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন থাকে। তাই এটি সুস্থ এবং শক্তিশালী হাড়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও আমাদের শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করতেও সজনের জুড়ি নেই।
বাতের ব্যথায় :বাতের ব্যথা উপশমে সজনে গাছের ছাল বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতি বেশ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সজনে গাছের ছাল তুলে তা বেটে রস চিপে নিয়ে এই রস নিয়মিত প্রতিদিন ৪-৬ চা চামচ খেলে বাতের ব্যথা শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ উপশম হয়।
দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায় :অনেকেরই দেখা যায় দাঁতের গোড়া থেকে রক্তপড়া কিংবা মাড়ি ফুলে যাওয়ার সমস্যা থাকে। আর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সজনে পাতা আধা মগ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভালোভাবে প্রতিদিন ২-৩ বার কুলকুচা করতে হবে।
হেঁচকি ওঠলে :হেঁচকি ওঠা সমস্যায় সজনে পাতার রস সামান্য দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে সজনে পাতার ৯-১০ ফোটা রস আধা গ্লাস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে হেঁচকি ওঠা কিছু সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়।
মাথাব্যথা সারাতে :সজনের আঠা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মাথাব্যথা সেরে যায়। এছাড়া আঠা কপালে মালিশ করলেও মাথাব্যথা সেরে যায়।
শ্বাসকষ্টে :সজনে ডাটা এবং পাতার রস খেলে শ্বাসকষ্ট সারে। সজনে ডাটায় থাকা প্রদাহবিরোধী এন্টি-অক্সিডেন্ট ভিটামিন ‘সি’ অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে বলে অ্যালার্জির কারণে যে শ্বাসকষ্ট হয় তা দূর করে।
