>> ফারহাত মাইশা
মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চান বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে সরকার স্বীকৃতি দিলেও সমাজ এখনো দেয়নি স্বীকৃতি। তবে সমাজে শত অবহেলার মাঝেও খানিকটা আশা নিয়ে বেঁচে আছেন তারা। ভিক্ষাবৃত্তি নয় বরং সুযোগ দেওয়া হলে দক্ষতার ভিত্তিতে জীবন-জীবিকা এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান হিজড়া জনগোষ্ঠী।
সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগে হিজড়া জনগোষ্ঠীদের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এবার বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ডেলিভারি সুবিধা। আর এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন কলেজ পড়ুয়া চার তরুণ উদ্যোক্তা। তারা হলেন—ফাতিন ফারহান, ইশমাম রাইয়ান তিহান, মাহাদী রাফি ও রহমতউল্লাহ মুন। এদের সবার বয়সই ১৮-২০ এর মধ্যে। চার বন্ধুর প্রত্যেকেরই ইচ্ছে ছিল সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর। সেই ইচ্ছে থেকেই ট্রান্সপোর্টের ভাবনা শুরু। আর যেই ভাবা সেই কাজ। ২০২০ সালের শেষের দিকে চার বন্ধু মিলে নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে শুরু করলেন ট্রান্সপোর্ট ডেলিভারি সার্ভিস।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাতিন ফারহান। হিজড়া জনগোষ্ঠীকে আলোচনায় আনার জন্যই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ট্রান্সপোর্ট।
ট্রান্সপোর্ট’র কার্যক্রম সম্পর্কে ফাতিন জানান, অন্যান্য ডেলিভারি সার্ভিসের মতো ট্রান্সপোর্টও একটি ডেলিভারি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান। এখানে হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সমাজের যে কোনো অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ কাজের সুযোগ পাবেন। ফাতিন আরো জানান, ট্রান্সপোর্টে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। যেমন, সাইকেলিং শিখানো, গ্রাহকের সঙ্গে কো-অপারেট করা, স্মার্টফোন ব্যবহার ইত্যাদি।
ফাতিন আরো জানান, আমরা যখন হিজড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ শুরু করি তখন তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। এদের সবাই কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে চান বলে জানিয়েছেন। ট্রান্সপোর্ট নিয়ে কাজ শুরুর পর থেকে সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতার। তবে হতাশ নন ফাতিন। ট্রান্সপোর্টের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রান্সপোর্টকে দেশের এক নম্বর ডেলিভারি সার্ভিসে পরিণত করতে চাই। কর্মচারীদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে চাই। সমাজের অবহেলিত মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে চাই। এছাড়াও হিজড়া জনগোষ্ঠীর নিজস্ব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ট্রান্সপোর্ট কাজ করে যাবে। দেশের হিজড়া জনগোষ্ঠী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ও ট্রান্সপোর্টকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের সেবা করবে—এমনটিই তরুণ উদ্যোত্তা ফাতিন ফারহানের স্বপ্ন।
