কাতার যাবে বলে যাওয়া হয়নি। সৌদি আরব যাবে, যাওয়া হয়নি। প্রস্তুতি নিয়েও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাওয়া হয়নি। মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যখন ব্যাকফুটে চলে আসতে হয় তখন তাদের মনের অবস্থাটা ভুক্তভোগীরা ছাড়া আর বুঝবেন। জাতীয় দলের ফুটবলারদের অবস্থাটাও এমন হয়েছে। নিজেরা চোখের সামনে দেখছেন প্রতিপক্ষ দলগুলো কোমর বেঁধে নেমেছেন।
যেভাবে যতটা ভালো করা যায় তার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়ে নেমেছেন। খেলোয়াড়রা মাঠে খেলবেন। আর কর্মকর্তারা মাঠের বাইরে থেকে সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগাবেন, এটাই স্বাভাবিক। অন্যান্য দেশের ফুটবলাররা যখন মানসিক প্রশান্তিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক উল্টো ঘটছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের বেলায়।
ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়রা খুবই অসন্তুষ্ট। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে মাঠে লড়াই করার সুযোগটা পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত বিদেশের মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার প্রত্যাশা বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় শেখ জামালের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। ফুটবলারদের কপাল এতই খারাপ যে, কাতার, সৌদির স্বপ্ন দেখিয়ে এখন নিজ মাঠেই অনুশীলন ম্যাচ খেলতে হবে জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, রহমত মিয়া, মতিন মিয়া, বিপলু, সুফিলদের। অথচ শেখ জামালের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স জেমির চোখেই পড়ে না। তারা নিশ্চই ভালো খেলতে পারে না। তাহলে ভালো খেলতে না পারাদের বিপক্ষে কেনই বা প্রস্তুতি ম্যাচ।
মনটা ভালো নেই, অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াদের। জামাল এখন আর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে চান না। মঙ্গলবার খুব বিরক্ত হয়েছিলেন প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে। বলছিলেন যারা খেলা আয়োজন করে তারা বলতে পারবে কেন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাওয়া হলো না। জামাল পুরো প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে বলছিলেন আগে আমরা এক মাস অনুশীলন করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি।
আফগানিস্তান, ভারতের বিপক্ষেও আমরা ভালো খেলেছি। জামাল বলেছিলেন দেশে এবং বিদেশে প্র্যাকটিস ম্যাচের ম্যাচের মধ্যে বিরাট ফারাক আছে। বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচ আর কন্ডিশনিং ক্যাম্প নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে জামাল ভুঁইয়া বলেন,‘এটা কি প্লেয়ারদের দোষ। এটা প্লেয়ারদের দোষ না। খেলোয়াড়রা আয়োজন করে না। অর্গানাইজাররা খেলা আয়োজন করে।’ ফুটবলার কোচ সবাই বুঝলেও অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন না। বাফুফের সঙ্গে কাতার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক। তাহলে ফুটবল কেন জটিলতা কাটিয়ে সেখানে যেতে পারল না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চারদিন আগে কাতার যেতে হচ্ছে।
১৫ মে দুবাইয়ে অনুশীলন শুরু করে আফগানিস্তান। সেখানে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কাতারে যাওয়ার কথা আফগানদের। ভারতীয় ফুটবল দল কাতারে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে সবার আগে। ভারতের দাবী তারা সেখানে সবধরনের সুযোগ সুবিধাও পেয়েছেন। এজন্য সেখানকার মন্ত্রীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন। আর বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিদেশে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার সুযোগ পেল না। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের হোম ম্যাচ কাতারে। সুযোগ-সুবিধা যদি পেতে হয় জামাল ভুঁইয়াদেরই পাওয়ার কথা। পাচ্ছে প্রতিপক্ষ।
ইত্তেফাক/এসআই
