রমজানের ইবাদতগুলো বিদায় দেওয়া যাবে না

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ২০:৫৩

রমজান বিদায় নিয়েছে, কিন্তু রমজানের ইবাদতগুলোকে বিদায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই, রমজানীয় কার্যক্রম সমগ্র জীবনব্যাপী সঙ্গেই রাখতে পারি। যেমন—১. সিয়াম :সপ্তাহে সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এবং শাওয়াল, জিলহজ, মুহররম ও মাসিক তিনটি সিয়াম পালন করতে পারি। ২. তাহাজ্জুদ :রমজানের মতোই প্রতিরাতে কিয়ামে লাইল (রাতের নামাজ/তাহাজ্জুদ) আদায়ের অভ্যাস অব্যাহত রাখতে পারি। ৩. ইতিকাফ :৭/১০/১ দিনব্যাপী বা দুই-চার ঘণ্টাব্যাপী মসজিদে ইতিকাফ করতে পারি। ৪. মসজিদ সংযুক্তি :রমজানে মুমিনের মসজিদে যাতায়াত সর্বাধিক থাকে, মসজিদের সঙ্গে সংযুক্তি মোমিনের জীবনব্যাপী গ্রহণীয় একটি বাধ্যতামূলক আমল।

৫. সাদাকাতুল ফিতর : ঈদুল ফিতরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সদকা করে নিই; কিন্তু সাধারণ সদকা মুমিন সমগ্র জীবনব্যাপী আদায় করবে, এটিও একটি জীবনব্যাপী ইমানদারের শ্রেয় আমল। ৬. দান :রমজানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত দান-সদকা করা। রসুলুল্লাহ (স) সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও রমজানে প্রবাহমান বায়ুর চেয়ে বেশি দান-সদকা করতেন। দান-সদকার এই পদ্ধতি আমরা পরবর্তী ১১ মাস আমল করতে পারি। ৭. কুরআন তিলাওয়াত :রমজানের একটি খাস ইবাদত কুরআন তিলাওয়াত। এটি দুভাবে আদায় করা হয় ১. সালাতের ভেতরে ২. সালাতের বাইরে। রমজানকে বিদায় দিলেও এই ইবাদতকে বিদায় দেওয়ার কোনো কারণ নেই। ৮. কুরআন অনুধাবন :হাদিসের পরিভাষায় একে বলা হয় মুদারাসাতুল কুরআন। কুরআনে এর প্রতিশব্দ এসেছে তাদাব্বুরুল কুরআন। আসলে অর্থ বুঝে কুরআন পড়া, বিশুদ্ধভাবে কোরআন পড়া। এই প্রকার ইবাদত আমরা রমজানে বেশি বেশি করলেও বাকি ১১টি মাস এ ইবাদতটি অব্যাহত রাখা আমাদের ইমানি কর্তব্য। ৯. দোয়া প্রার্থনা :রোজা অবস্থায় দোয়া কবুল হয়, তাই রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ বেশি বেশি দোয়া করা। রোজা রমজান না থাকলেও দোয়া কবুলের আরো বহু অনুষঙ্গ আছে। যেমন শুক্রবারে দোয়া কবুল হয়। রাতে দোয়া কবুল হয়। সফরে দোয়া কবুল হয়। কবর জিয়ারতে ও রোগীর সেবায় দোয়া কবুল হয়। এরকম স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় দোয়া কবুলের নিশ্চিত অবস্থানে সমগ্র জীবনব্যাপী দোয়া করা যেতে পারে।

১০. সংযম যাপন :এটি রমজানের সিয়ামের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। সিয়াম পালনরত না থাকলেও সংযম মুমিনের জীবনের সার্বক্ষণিক অনুষঙ্গ করা চাই। সংযম ব্যতিরেকে মুমিন ইমানি জীবন যাপন করতে পারে না। সিয়ামরত না থাকলেও মুমিন মূর্খতা অবলম্বন করবে না, অশ্লীল কাজ করবে না, মিথ্যা কথা-কাজ করবে না, গিবত করবে না। ১১. জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ : রমজানের সিয়ামের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হলেও মুমিন তার সমগ্র জীবনব্যাপী জৈবিক চাহিদা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে ইমান রক্ষার স্বার্থে। ১২. পানাহার নিয়ন্ত্রণ :মুমিন এ কাজটিও সমগ্র জীবনব্যাপী করবে।

১৩. কঠোর ও দীর্ঘ ইবাদত :এটি রমজানের প্রধান অনুষঙ্গ হলেও বাকি ১১টি মাসেও ইমানদার ব্যক্তি পার্থিব কার্যক্রমের চেয়ে ইবাদাত-বন্দেগি বেশি গুরুত্বসহ করবে, এতে গভীর মনোনিবেশ প্রদান করবে এবং ভীষণ কষ্ট হলেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইবাদত-বন্দেগি করবে।

lলেখক :অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা‑