কেমন বাজেট চান শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২০:০৫

বাজেট বরাদ্দে বিভিন্ন খাতের মধ্যে অন্যতম একটি খাত হলো শিক্ষা খাত। জাতি গঠনে শিক্ষা অন্যতম অনুষঙ্গ। অথচ, বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে করোনা সংকট শিক্ষা খাতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ফলে, শিক্ষা খাতে প্রকৃত বাজেট দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এমতাবস্থায় শিক্ষা খাতে কেমন বাজেট চান শিক্ষার্থীরা, তা তুলে ধরেছেন —তানভীর আহম্মেদ

জনশক্তিকে জনসম্পদে

রূপান্তরে গুরুত্ব

দিতে হবে

গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দিয়েছে মোট বাজেটের ১১.৬৯% যা জিডিপির ২.১০%। এখানে লক্ষণীয় যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে যুক্ত করে বাজেট বরাদ্দের হিসাব করা হয়। ফলে শিক্ষা খাতের প্রকৃত বাজেট পরিকল্পনা অস্পষ্ট থেকে যায়। অথচ, ইউনেস্কো এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্কের মতে একটি দেশের মোট বাজেটের ১৫-২০% এবং জিডিপির ৪-৬% শিক্ষা খাতে রাখা আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে মেধাবীরা খুব কম খরচে পড়ার সুযোগ পায়। এছাড়া, শিক্ষায় কোনো ধারা রাখা যাবে না, একটি বৈষম্যহীন মানসম্মত ও সম্মানিত শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা জরুরি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার কমাতে উপবৃত্তির পাশাপাশি স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত খাবার সম্মত ও পুষ্টিকর হতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

করোনা শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ যেখানে অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে আমরা নতুনভাবে পরিচিত। এক্ষেত্রে শিক্ষার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও চাহিদা পূরণের জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা ও শিক্ষা অধিকার রক্ষার ব্যাপারটি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে ইন্টারনেট কিনার জন্য বরাদ্দ ব্যবস্থা করা উচিত।

—নুসরাত তাসফিয়া ঈশিকা

অর্থনীতি বিভাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঝরে পড়া রোধে

বিশেষ বরাদ্দ

প্রয়োজন

করোনা ভাইরাসের থাবায় সারা বিশ্ব আজ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। প্রতিটি সেক্টরে এর প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেহাল দশা শিক্ষা খাতে। ১৫ মাস যাবত্ বন্ধ সব শিক্ষাঙ্গন। এমতাবস্থায় ঝরে পড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই ২০২০-২১ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়। একটি দেশের শিক্ষা খাতে যেখানে ১৫-২০% বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন সেখানে আমাদের দেশে সর্বশেষ অর্থবছরে বরাদ্দ করেছে মাত্র ১১.৬৯%।

এসব তথ্য বলে দেয় বাংলাদেশের শিক্ষা   খাতে যে বাজেট দেওয়া হয় তা মোটেও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে           নতুন করে যোগ হয়েছে করোনা সংকট। এক্ষেত্রে বলা বাহুল্য এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।     কোনো হেলাফেলা বাজেট নয় প্রয়োজন বাস্তবমুখী বাজেট।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ঝরে পড়ার হার কমানোর দিকে। বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। এছাড়া, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন। গবেষণা শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ আমাদের দেশে গবেষণা খাতে সেরকম কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না। প্রয়োজন গবেষণা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো।

—নিশাত খান তুলি

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

গতানুগতিক ধারা থেকে

বেরিয়ে আসতে হবে

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা আসছে সামনে। বাড়ছে কল্পনা-জল্পনাও। কোন খাতে কত বরাদ্দ তা নিয়ে চলছে সমীকরণ সমাধানও! শিক্ষা ও গবেষণা খাত বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আমরা শিক্ষার্থীরাও এই খাতে কত বরাদ্দ আসে তা নিয়ে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করি! বলা হয়ে থাকে, দেশের মোট বাজেটের শতকরা বিশ (২০) ভাগ বা ডিজিপির ছয় (০৬) শতাংশ হলো শিক্ষা খাতে বরাদ্দের আদর্শ মান। আমরা কত শতাংশ করছি? গত বছরে টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ শিক্ষা খাত তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট পেলেও তা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীও যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাজেট প্রণয়নে সেটিও মাথায় রাখা দরকার। শিক্ষার্থীপ্রতি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গতানুগতিক ধারা থেকে যে আমাদের বের হতে হবে তা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে চলমান মহামারি সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারণ হলে আসনসংখ্যা সীমিত, গাদাগাদি করে থাকতে হয়। আবার গবেষণা খাতে যে সীমিত বরাদ্দ তা দিয়ে আমাদের গবেষণা খাত কতদূর এগিয়েছে সেটিও এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়। শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য গবেষণাগার পর্যাপ্ত কি না সেটিও প্রশ্ন থেকে যায়! সুতরাং, আমাদের গবেষণা ও শিক্ষাবান্ধব বাজেট প্রয়োজন। শিক্ষা এগিয়ে গেলে এগিয়ে যায় একটি জাতি।

—শাওন মাহমুদ

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষা খাতে বাজেট

বাড়াতে হবে

বিগত দুই দশকে শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের যে অগ্রযাত্রা তা সমুন্নত রাখতে এবং করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখনই একটি শিক্ষা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন। করোনার সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রেণিকক্ষ-ভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ মাধ্যমে এখনো সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দসহ কমপক্ষে দুই-তিন বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে এবং বিশেষ পরিকল্পনায় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো বাদ দেওয়া এবং পাঠদানের রুটিন সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

—মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

পরিসংখ্যান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।