ক্যাম্পাস খোলার অপেক্ষায়

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২০:০৬

  ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

ছাত্রজীবনে সময় খুব দ্রুতই চলে যায়। সেই সময়কেই থামিয়ে দিয়ে অপেক্ষাকে জয় করেছে করোনাকালীন দীর্ঘ সময়ের ছুটি। শিক্ষার্থীদের করে তুলেছে মানসিক বিসাদগ্রস্ত আর দিয়েছে কারাবন্দির স্বাদ। গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু। একটু একটু করে প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস শেষ পর্যন্ত একটি বছরেরও অধিক সময় ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। নেই আড্ডা, নেই গল্প, নেই দেখা করার সুযোগ। এভাবেই কেটে গেছে দিন। কত আন্দোলন, কত মানববন্ধন, তবু ক্ষান্ত হয় না করোনা ভাইরাস, খোলে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। এভাবেই কেটেছে দিন, এভাবেই কাটছে দিন। তবে ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্পাস খোলার সম্ভাবনা থেকে শুরু করে প্রতিবার লকডাউনের মতো বাড়তে থাকা সময় যেন শিক্ষার্থীদের আক্ষেপটা বাড়িয়েই দেয়। বন্ধের বেড়াজালে ক্লান্ত সবাই। এরই মাঝে ক্যাম্পাস-জীবনের সময়টা অনলাইন ক্লাস আর এক অজানাতেই যেন কেটে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন এক মুক্ত পাখির মতো। স্কুল-কলেজের মতো নেই একটানা ক্লাস, নেই বাবা-মায়ের বকুনি খাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্টের প্যারা থাকলেও তা যেন কোনো ব্যাপারই হয়ে ওঠে না। কেননা, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন এক অন্যরকম আবেগ-অনুভূতির জায়গা। সেই ক্যাম্পাসকেই দূরে রেখে এতদিন বাড়ি বসে অনলাইন মেলামেশা যেন তার একটুও স্বাদ মেটাতে পারেনি। বন্ধু, ক্যাম্পাস আর আড্ডা মিলেই কেটে যায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। বন্ধু ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়জীবন যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি ক্যাম্পাস ছাড়াও বন্ধুত্বটা যেনাপূর্ণতা পায় না। এই বন্ধু গল্প আড্ডার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থামিয়ে দিয়েছে ক্ষুদ্র সেই করোনা ভাইরাস, পালটে দিয়েছে জীবনের গতিধারাও। বাড়িতে বসে বসে এখন প্রতিটি শিক্ষার্থী সোনালি ক্যাম্পাসের দিনগুলোর কথা মনে করে স্মৃতিবিজড়িত হন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট যেমন শান্ত চত্বর, টিএসসি, বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কলা অনুষদ চত্বর, কাঁঠালতলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের বাইরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয় বাসের ভেতরে, ক্যান্টিনে, ভাষাশহিদ রফিক ভবনের সামনে, অবকাশ ভবনে, শহিদ মিনারের সামনে, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আড্ডা এবং খোশগল্পেরই যেন অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধু-বান্ধবী, ভাইয়া-আপু কিংবা জুনিয়র; জন্মদিন উদ্যাপন আর কেক মাখামাখির পর ছোট-বড় ট্রিট; এসব আনন্দ যেন শুধু মনেই পড়ে সবার আর বাড়িয়ে দেয় ক্যাম্পাসে ফেরার আক্ষেপ। থমকে থাকা ক্যাম্পাস যেন শিক্ষার্থীদের ফেরার প্রহর গুনছে। আধুনিক বিশ্বে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন ক্লাস হলেও আটকে আছে পরীক্ষা, বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা, ভবিষ্যত্ নিয়েও শুরু হয়েছে দুশ্চিন্তা। কেবল যান্ত্রিক জীবন আমাদের দম না ছাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন অনলাইনে কাটানো শিক্ষার্থীরা অফলাইনে আসার উপায় খুঁজছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার আকুতি এখন শিক্ষার্থীদের মাঝে উঁকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। তারুণ্য, উদ্দীপনা, গল্প-গানে-আড্ডায় আবারও মেতে উঠবে ক্যাম্পাস। এখন অপেক্ষা শুধু ক্যাম্পাস খোলার। যেদিন টিএসসির এক কাপ চায়ের চুমুকে শুরু হবে দিন আর গানের আড্ডায় রাত। খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়—এমনটাই প্রত্যাশা।