অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট থেকে স্লেজিং ও আগ্রাসন উধাও! এও আবার হয় না কি? অনেকে এই প্রশ্ন তুললেও এটাই বাস্তব। বল-বিকৃতি কেলেঙ্কারির পরে স্টিভ স্মিথের দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে এই দুটো ব্যাপারই নাকি প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছে।
যে অস্ট্রেলিয়া এক সময় মাঠে বিপক্ষকে উত্যক্ত করে মারত বলে অভিযোগ উঠেছে বরাবর, সেই অস্ট্রেলিয়া এখন এ সব বাদ দিয়ে শুধু ক্রিকেটে মন দিয়েছে, এটা ভাবাই বেশ কষ্টকর। তবে সদ্য যারা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের এই নতুন রূপ দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করল, সেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস বলছেন, এই অচেনা অস্ট্রেলিয়াকে দেখে তার কিছুটা হলেও অস্বস্তি হয়েছে।
সদ্য তিনটি ওয়ান ডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দেওয়া ডু প্লেসিস বলেন, ‘অনেক বদলে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। মাঠে বিপক্ষকে উত্যক্ত করার প্রবণতা ওদের আগের চেয়ে অনেক কম।’
বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা তাদের চরম আগ্রাসী রূপ দেখিয়েছিল বলেই দুই মেজাজের তফাৎটা খুব ভালভাবে টের পাচ্ছেন ডু প্লেসিস। ব্রিসবেনে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলতে নামার আগের দিন।
তিনি বলেন, ‘ওখানে যা হয়েছিল, তার তুলনায় এখন ওরা অনেক নরম। মাঠে আগের মতো আর বেশি কথা বলে না ওরা। বরং ক্রিকেটের মাধ্যমে নিজেদের বেশি প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। ক্রিকেটটা সাধারণত যে রকম হয়, সে রকমই হচ্ছে এখানে।’
কিন্তু একে স্বাগত জানাতে রাজি নন ডু প্লেসিস। তিনি বরং বলছেন, ‘এটা ঠিকই যে নিয়মের মধ্যে থেকেই সব কিছু করা উচিত। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যদি ক্রিকেটারদের নিজেদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলো একেবারে দূরে সরিয়ে দিতে হয়, তা হলে তার প্রভাব তো পারফরম্যান্সে পড়তেই পারে।’
ডুপ্লেসি হয়তো পরোক্ষে বলতে চাইছেন, টিম পেইনদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণ কিছুটা হলেও তাঁদের এই স্বভাব বদল। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এ দিন আবার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরে তিনি এই ফর্ম্যাটের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে অবসর নিতে পারেন।
ইত্তেফাক/কেআই
