আবুল কাসেম ভুঁইয়া
আমাদের দেশে সৌদি আরবের খেজুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতারের জন্য খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার টন খেজুর আমদানি করা হয়। সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে খেজুর আমদানি করা হয়। খেজুর মানবদেহের অনেক উপকার করে থাকে। মরু অঞ্চলের ফল হচ্ছে খেজুর। আমাদের বাংলাদেশে সৌদি খেজুরের চাষ হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে সীমিত আকারে চাষ হলেও বর্তমানে ব্যাপকভিত্তিতে সৌদি খেজুরের চাষ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি খেজুরের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি খেজুরের চাষ হচ্ছে। খেজুরের চারা রোপণের তিন থেকে চার বছর পর ফল আসে। বীজের চারার চেয়ে কলমের চারায় ফলন তাড়াতাড়ি আসে। বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ু সৌদি খেজুরের চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সৌদি খেজুর চাষ তেমন জটিল কিছু নয়। উপযুক্ত এবং উঁচু জায়গা যেখানে বৃষ্টির পানি জমতে পারে না তেমন জায়গা নির্ধারণ করে জমি খেজুর চাষের জন্য তৈরি করতে হবে। সৌদি খেজুর চাষের ব্যাপারে কিছু ধারণা নিতে পারলে এই খেজুর চাষ তেমন জটিল কিছু নয়। তবে সৌদি খেজুরের চারা রোপণের আগে স্ত্রী পুরুষ গাছ দেখে নিতে হবে। স্ত্রী গাছে ফলন আসে পুরুষ গাছে ফলন আসে না। বাগান তৈরির সময় স্ত্রী পুরুষ গাছ দেখে এবং নিয়ম অনুযায়ী রোপণ করতে হবে।
সৌদি খেজুরের বাগান খোলামেলা উন্মুক্ত স্থানে হওয়া উত্তম। কারণ খেজুর গাছগুলো পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পেলে ভালো ফলন আসবে না। প্রতিবছর প্রতিটি খেজুর গাছ থেকে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকার খেজুর পাওয়া সম্ভব। আমাদের দেশে উত্পাদিত সৌদি খেজুরের মান বেশ উন্নত। দেশে ১৬ প্রজাতির খেজুর উত্পন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আজওয়া, আনবারা, সুক্কারী, বারহি, মরিয়ম, রুথান জাতের খেজুর। আমাদের দেশে উত্পাদিত উন্নতমানে সৌদি খেজুর বাজারে বিক্রি হয় ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা।
