আজ ৩ জুন। ভয়াবহ নিমতলী ট্র্যাজেডির ১১ বছর পূর্ণ হলো আজ । ২০১০ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গুদামে রক্ষিত মারাত্মক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের কারণেই ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার আতঙ্ক এখনো কাটেনি পুরান ঢাকাবাসীর মন থেকে। রাসায়নিকের গুদামগুলো পুরোপুরি না সরানোয় ১১ বছর ধরে আতঙ্ক নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
বছরের পর বছর ধরে পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম ও প্লাস্টিকের কারখানা থেকে লাগা আগুনে ঘটছে প্রাণহানি। গত ১২ বছরে পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে ঝরেছে দুই শতাধিক প্রাণ। তবুও বদলায়নি পুরান ঢাকার চিত্র। এখনো রাসায়নিকের গুদাম, দোকান ও কারখানা রয়েছে বহাল তবিয়তে। আর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই কেবল নড়াচড়া শুরু হয় সংশ্লিষ্টদের। সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও তার বাস্তবায়ন নেই। চলে শুধু রুটিন অভিযান। ফলে কয়েক বছর পর পর ঘটছে আগুন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি।
এ অবস্থায় পুরান ঢাকার বাসিন্দারা বলছেন, আমরা এখন আর আশ্বাসে বিশ্বাস করতে চাই না। সরকারি উদ্যোগ ও আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। স্থানীয়রা বলছেন, একেকটি আগুন ট্র্যাজেডি ঘটে আর সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুরই বাস্তবায়ন হয় না। নিমতলী ট্র্যাজেডির ৯ বছর পর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনের আগুনে মারা যান ৭১ জন। এর দুই বছর পর এবার আরমানিটোলার হাজী মুসা ম্যানসনের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল আরো চার জনের। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও ছোটখাটো অনেক আগুন সেখানে লেগেছে।
নিমতলী ট্র্যাজেডির পর ৪০০ অবৈধ গুদামের তালিকা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। তালিকা ধরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়নি আজও। ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক গুদাম না সরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিমতলী, নবাব কাটরা, আগামসী লেনসহ পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। আরমানিটোলার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, নিমতলী ও চুরিহাট্টা ট্র্যাজেডির পর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেওয়ার। গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি। গত ১২ বছরেও কমিটির দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো সরানো হয়নি রাসায়নিকের গুদাম ও অবৈধ কারখানা। এখন আরমানিটোলায় আবার আগুন লাগল। রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরাতে না পারলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কেউ দিতে পারবে না।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরান ঢাকায় এখন রাসায়নিক ব্যবসা করেন ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী। রাসায়নিকের ধরন আছে প্রায় ৫ হাজার রকমের। এর মধ্যে কিছু রাসায়নিক অতিদাহ্য। এলাকায় প্লাস্টিকের কারখানা ও গুদাম রয়েছে প্রায় ১ হাজার। তবে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর ওয়াহেদ ম্যানশনের আশপাশের গুদামগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
