শেষ দুই বলে দরকার ১২ রান।
সাইফউদ্দিনের করা পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে দিলেন আন্দ্রে রাসেল। পুরো স্টেডিয়াম তখন দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজনায় কাঁপছে দুই ড্রেসিংরুম। শেষ বলে দরকার ছক্কা। লেগ স্ট্যাম্পের ওপর ভয়ানক ইয়র্কার করলেন সাইফ। সেই বলেও প্রাণপণ করে বাউন্ডারি মেরে দিলেন রাসেল। কাজের কাজ হলো না।
ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ১ রানের জয় পেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
এক পাশে ছুটে চলে এলেন কুমিল্লার রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়, কোচ কর্মকর্তারা। আরেক পাশে, উইকেটের ওপর হতাশ হয়ে বসে রইলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের দুই ব্যাটসম্যান। যেন শিরোপাই হাতছাড়া হয়ে গেছে।
এখনই শিরোপার প্রশ্ন উঠছে না। তবে শ্বাসরোধ করা এই ম্যাচ ঢাকার এবারের বিপিএল ভাগ্যকে আরও অনিশ্চিত করে দিল। তাদের হাতে থাকা শেষ দুই ম্যাচে অন্তত একটি জয় দরকার ছিল। সেখানে কুমিল্লাকে ১২৭ রানে অলআউট করেও হার দেখতে হলো। এখন শেষ ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। সেই সঙ্গে রান রেটের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নইলে ঢাকাকে টপকে রাজশাহী চলে যাবে সেরা চারে।
অন্য দিকে এই টানটান জয়ের ফলে আপাতত অন্তত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে এলো কুমিল্লা। তাদের টপকানোর সুযোগ আছে রংপুর রাইডার্সের। এই দুটি দলের মধ্যেই সেরা দুই নিয়ে লড়াই হওয়ার কথা।
চট্টগ্রামে হয়ে যাওয়া বিপিএলের খেলায় রীতিমতো রান উত্সব হয়েছে। সেঞ্চুরি হয়েছে বলে কয়ে। সেখানে ঢাকায় ফিরেই আবার রানখরায় ভুগতে শুরু করেছে বিপিএল। প্রথম ম্যাচে ১২৭ রান করে জয় পেয়ে গেল কুমিল্লা।
আগে ব্যাট করা কুমিল্লার ওপেনার তামিম ইকবাল ছাড়া টপ ও মিডল অর্ডারে কেউ ন্যূনতম সাফল্য পাননি। তামিম একপ্রান্তে ২০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ রান করেছেন। অন্য প্রান্তে এক অঙ্কেই ফিরে এসেছেন এভিন লুইস, এনামুল হক, ইমরুল কায়েস ও সামসুর রহমান শুভ। এক পর্যায়ে ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে কুমিল্লা। এরপর পর শহীদ আফ্রিদি এসে ১৭ বলে ১৮ রান করেন। তারপরও সম্মান রক্ষা হয় মেহেদী হাসানের ১৫ বলে ২০ রানে এবং ওয়াহাব রিয়াজের ১২ বলে ১৬ রানের ইনিংসে।
ঢাকার হয়ে রুবেল হোসেন ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন। আর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সুনীল নারিন ও সাকিব আল হাসান।
জবাব দিতে নেমে ঢাকাও শুরুতে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে তারা ২৯ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। এরপর তিন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টেনে তোলেন তাদের। প্রথমে পোলার্ড ও নারিন ৪২ রানের জুটি করে চেষ্টা করে। নারিন ২৪ বলে ২২ রান করেন। আর পোলার্ড ৩৩ বলে ৩৪ রান করেন।
তবে আসল লড়াইটা করেন আন্দ্রে রাসেল। টেইল এন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। কিন্তু ২৩ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংস খেলেও শেষ রক্ষা করতে পারলেন না।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১২৭/১০ (তামিম ৩৮, মেহেদী ২০; রুবেল ৪/৩০, সাকিব ২/২৩, নারিন ২/২৫)।
ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১২৬/৯ (পোলার্ড ৩৪, রাসেল ৩০, নারিন ২২; সাইফউদ্দিন ৪/২২, মেহেদী ২/২২)।
ফল: কুমিল্লা ১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাইফউদ্দিন
সাইফউদ্দিন
ওভার ৪
রান ২২
উইকেট ৪
