জান-ই-আলম
চার বছর আগের কথা। শারজায় আগের রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলে ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় নামা উমর আকমলকে ৮০ হাজার টাকা ভাড়ায় হেলিকপ্টার দিয়ে উড়িয়ে সাগরিকায় নিয়েছিল। যদিও সেদিন ম্যাচে মাত্র ১ রান করেছিলেন। সেবার ফিক্সিং কাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটানো মোহাম্মদ আমিরকেও দলে টেনেছিল চিটাগং ভাইকিংস।
দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীক গোষ্ঠী ডিবিএল গ্রুপের মালিকানায় ২০১৫ সালে নতুন আঙ্গিকে আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি। দল গঠন করেই এমন সব চমক উপহার দিলেও মাঠের ক্রিকেটে বলার মতো সুখকর স্মৃতি সঙ্গী হয়নি তাদের। নিজেদের প্রথম আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, ২০১৬ সালে প্লে-অফে উঠেছিল দলটি। ২০১৭ সালে দল গঠনে অনাগ্রহের কথাও ছড়িয়েছিল। আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে চিটাগং ভাইকিংস। অনেক দোটানার পর ষষ্ঠ আসরেও দল গঠন করে ডিবিএল গ্রুপ।
যেখানে ইতোমধ্যে প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করেছে মুশফিকুর রহিমের দল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শিরোপার দাবিদারও এখন চিটাগং। ব্যর্থতার মিছিল দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া দলটির চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ যারপরনাই খুশি দল প্লে-অফে উন্নীত হওয়ায়। ভারসাম্যপূর্ণ দল, দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স, মুশফিকের নেতৃত্বসহ সবমিলিয়ে এবার বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে, ভালো দল গড়েও অতীতে বলার মতো সাফল্য আসেনি। চলতি আসরে দলের অগ্রযাত্রায় তৃপ্ত আব্দুল ওয়াহেদ। গতকাল একান্ত আলাপে তিনি বলেছেন, সামনের আসরগুলোতেও চিটাগং ভাইকিংসের দলটা তারাই গঠন করবেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন আব্দুল ওয়াহেদ। রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তার বড় ভাই। বিপিএলের শেষ তিন আসরে দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হননি অকুতোভয় এই মুক্তিযোদ্ধা। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এবারসহ চারটা আসর চলছে আমাদের। তবে তিনটা আসরে আমরা ভালো দল গড়েছি, বিভিন্ন রকমভাবে চেষ্টা করেছি। জানতাম খেলোয়াড়রা মাঠে ভালো খেললে আমরা রেজাল্ট পাবো। যদিও আমরা কখনো খুব হতাশ হয়ে পড়েনি।’
মুশফিকের নেতৃত্বে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে ভাইকিংসরা। তাতে বেজায় সন্তুষ্ট দলটির চেয়ারম্যান। আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক যে খুব খুশির বিষয়। চার আসরের মধ্যে এবার আমাদের দলটা আমি মনে করি সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন হয়েছে। আমাদের দেশের কালেকশনটা আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে, একইভাবে আমাদের বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছে আমরা যেরকমটা আশা করেছি, তারাও আমাদের আশানুরূপ খেলাই খেলছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার রবি ফ্রাইলিঙ্কের হাত ধরে তিনটি ম্যাচ জিতেছিল চিটাগং। ব্যাটসম্যান মুশফিকও জিতিয়েছেন দুটি ম্যাচ। আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, ‘আমাদের ফ্রাইলিঙ্কের কথা ধরেন, সে অত নামী-দামী খেলোয়াড় না। অনেকে তার নামও জানে না। তিনটা ম্যাচ তো সে একাই আমাদের জিতিয়ে দিছে। আমার তো মনে হয়, মুশফিক আমাদের দলে এসে এবার যে খেলাটা খেললো, তার জীবনে বিপিএলের সেরা খেলাটা খেলছে। প্রত্যেকটা খেলায় সে রান করছে। এমনকি সে এককভাবে দুইটা ম্যাচ আমাদের জিতিয়েছে।’ হোম ভেন্যু চট্টগ্রামে গিয়ে টানা তিন ম্যাচ হেরেছিল চিটাগং। তখন দাসুন শানাকা ছিলেন না, হ্যামস্ট্রিংয়ের কারণে সাইড বেঞ্চে ছিলেন ফ্রাইলিঙ্ক। তবে তিন ম্যাচ হেরে ভড়কে যাননি দলের মালিকরা। এখন দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা। বড় কিছুর আশাই করছেন তারা। আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, ভাগ্যের খেলা। এবার ভালো কিছু আশা করছি। চাইবো নতুন কোনো দল যেন এবার বিপিএলের ট্রফি জিততে পারে।’ আর চিটাগং ভাইকিংস দলও হাতছাড়া করতে চায় না ডিবিএল গ্রুপ।
