ভিডিও গেমস কখন ও কেন হারাম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ২০:৫৯

করোনা যেমন বিশ্বে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে, তদ্রূপ স্মার্টফোনের সঙ্গে সঙ্গে সিওসি, ফ্রি ফায়ার, পাবজি, মোস্তাফা প্রিস অব পার্সিয়া ইত্যাদি গেমসও মহামারি এনে দিয়েছে যুবসমাজের মধ্যে। প্রতিনিয়ত খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই, নেট সংগ্রহ করতে না পেরে যুবকের আহাজারি, পরিবারে সৃষ্টি করে অশান্তি অথবা আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতি। এসব গেমসের ব্যাপারে যদিও সরাসরি ইসলামে বিধিনিষেধ নেই, তবে এর কারণে যদি ইসলামের কোনো নিয়ম অমান্য করার উপক্রম হয়ে যায়, তাহলে এটা আমাদের জন্য নিষিদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হবে। এখানে বিশেষ করে আমারা দেখি পাবজিকে। তবে শুধু পাবজি কেন, যে কোনো গেম খেলতে খেলতে নামাজ-রোজা, পড়াশোনা, নিজের দায়িত্ব সব ভুলে যান, মনে হয় সেই কাজই সব—তাহলে সেটা হারাম। গেমগুলো আপনাকে দেখায় সবাই শত্রু, এদের মেরে ফেলো। খেলে উঠে আশপাশের সবাইকে অনেক সময় শত্রু মনে হয়। আবার রেগে গেলে মনে হয় হাতে কিছু থাকলে গেমের মতো সবগুলোকে যদি শেষ করতে পারতাম! আবার কোনো গেমে কারো ঘরে ইচ্ছেমতো ঢুকে তার সঙ্গে অসামাজিক কর্ম করা যায়। তখন মনে হয়, যদি বাস্তবটাও এমন হতো! এমন মনভাব যদি কারো মনে সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই গেম হারাম। কারণ এই গেমগুলো খেলতে খেলতে একসময় আপনার গেম আর বাস্তবতার মধ্যে কোনো পার্থক্য মনে হয় না। গেমের একটা রেশ থেকেই যায়। কখন আপনি মারমুখো হয়ে গেছেন, কখন কার সঙ্গে কী শুরু করেছেন, সেই নিয়ন্ত্রণ যদি না থাকে, তার মানে আপনি হারাম কাজে ডুবে গেছেন, শয়তানের পথে হাঁটছেন।

আল্লাহতাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,  ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি। অতঃপর সে তার সঙ্গী হয়। (সুরা যুখরুফ :আয়াত ৩৬) যে কোনো ধরনের জিনিস, যা আল্লাহকে বিশ্বাস অথবা তাকে মনে করা অথবা তাকে ভয় করা থেকে আপনাকে ভুলিয়ে রাখে, আল্লাহর ওপর থেকে বিশ্বাস নষ্ট করে, আপনাকে মানুষ থেকে পশুর মতো আচরণ করতে বাধ্য করে তা-ই হারাম। কিন্তু এই খেলাটা যদি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সময় নষ্ট না হয়, আপনাকে মারমুখো পশুতে না পরিবর্তন করে, অশ্লীলতায় না ডোবায়, তাহলে হয়তবা হারাম নয়। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :মহামহিম আল্লাহ্ বলেন, আদমসন্তান সময়কে গালি দেয়। অথচ আমিই সময় এবং কাল, রাত-দিন আমারই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। [সহিহ মুসলিম হাদিস-৫৬৯৭]  ‘আমিই সময়’-এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তাআলা হচ্ছেন বিশ্বের সময় জ্ঞাপক শক্তি। বরং এর অর্থ হচ্ছে, রাত-দিনের আগমন-নির্গমন, রাতের পেছনে দিন ও দিনের পেছনের রাতের আগমন, ঋতুর পরিবর্তন, সবকিছুই আল্লাহ্ তাআলার নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনিই সময়কে নিয়ন্ত্রণ করেন। এ সবকিছুই তার হুকুমের অধীন। তার মানে, আল্লাহ সময়কে সৃষ্টি করেছেন তাকে কে বিশ্বাস করে সময় দিয়ে পরীক্ষা করতে। এই সময়কে যখন আপনি নষ্ট করেন, অবহেলা করেন, অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করেন, আল্লাহকেই আপনি অসম্মান করেন। কারণ সময়টা তার বিশেষ নেয়ামত। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর কাছে এই সময় কী কাজে ব্যয় করা হয়েছে জবাব দিতে হবে। আমরা কি সেজন্য প্রস্তুত? ক্ষতিকর কাজগুলো ইসলামি শরিয়তের মধ্যে একেবারেই নিষিদ্ধ। এর মাধ্যমে আপনার কোনো উন্নতি হয় না। তবে সীমিত সময়ে বিনোদনের জন্য কেউ এটা করলে জায়েজ হতে পারে।

lলেখক :কবি, প্রাবন্ধিক