বাংলায় প্রবাদ আছে#লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু। প্রবাদটি বলা হয় মূলত লোভী ব্যক্তির ক্ষতির দিকটি চিন্তা করে। কারণ পৃথিবীতে লোভই অন্যতম একটি খারাপ গুণ, যা জীবন ধ্বংসের কারণ, যা মানুষের ভেতরে থাকা মনুষ্যত্বকে মেরে ফেলে। লোভ-লালসার জন্য একজন মানুষ সব অপরাধ সহজে করে ফেলতে পারে। লোভ-লালসা মানুষের অন্তরের মারাত্মক ব্যাধি। তার বিবেক-বুদ্ধি লোপ করে তাকে দুর্নীতি ও পাপের পথে পরিচালিত করে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ঘুষ-দুর্নীতি, মারামারি, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, অপহরণ, গুম, খুনখারাবিসহ অধিকাংশ সামাজিক অনাচার বা বিপর্যয়ের পেছনে লোভ-লালসার বিরাট প্রভাব রয়েছে। তাই রসুলুল্লাহ (স) লোভ-লালসাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেন,আদমসন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে সে কামনা করে—তার যদি আরেকটি উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকত! মাটি ছাড়া কোনো কিছুই তার মুখ পূর্ণ করতে পারবে না! (জামে তিরমিযি, হাদিস ২৩৩৭) রাসুলে আরাবি (স) আরো বলেছেন, ‘তোমরা লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা এ জিনিসই তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং পরস্পরকে রক্তপাত ঘটানোর ব্যাপারে উসকে দিয়েছে। লোভ-লালসার কারণেই তারা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করেছে।’ (মুসলিম)
লোভ-লালসা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন অর্থ-সম্পদ, মান-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, ক্ষমতা, পদমর্যাদা, প্রসিদ্ধি ও সুখ্যাতি লাভের প্রবল লোভ মানব চরিত্র গঠন ও সংশোধনের পথে বিরাট অন্তরায়। এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপর কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না (সূরা আন-নিসা, আয়াত:৩২)। খ্যাতি-ক্ষমতা-প্রতিপত্তি ও ধন-সম্পদের মোহ সমাজ-জীবনে সব অনিষ্টের মূল। প্রকৃতপক্ষে ধন-সম্পদের লিপ্সা ও খ্যাতির প্রতি অতিশয় মোহ নিতান্তই ক্ষতিকারক। নবি করিম (স) উপমাসহকারে বলেছেন, ‘দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ ছাগলের পালে ছেড়ে দিলে যে রকম ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সম্মান লিপ্সা ও সম্পদের লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর’ (তিরমিজি)। তাই প্রকৃত মুমিন ও সুখী হতে হলে লোভ-লালসা পরিহার করতে হবে তাহলে মুমিন হওয়া যাবে। মোটকথা লোভ-লালসা পরিহারকারী দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় সুখি আর লোভী ব্যক্তি উভয় জগতেই পাপী ও দুঃখী।
lলেখক :আলেম ও ইসলামি গবেষক
