তাড়াশে বিদ্যালয় থাকলেও নেই যাতায়াতের রাস্তা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৭

তাড়াশে শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবই আছে। নেই শুধু যাতায়াতের জন্য রাস্তা। ১৯৮৮ সালে উপজেলার প্রত্যন্ত হামকুরিয়া গ্রামে এ বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর থেকে অনেক চেষ্টা করেও যাতায়াতের রাস্তা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে অনেকটা পথ আবাদি জমির সরু আইল আর ডোবা-নালার পাড় দিয়ে যাতায়াত করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্ষাকালে নৌকাই যাদের একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গেলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান, ছানি আহমেদ, সুরাইয়া পারভিন, রূপালী পারভীনসহ অনেকে জানায়, হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তাদের বিদ্যালয়। এতটা পথের মাঝে মধ্যেই পা ফসকে কাদা-পানিতে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বর্ষা  মৌসুমে তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় বিল পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ভালো। ফলাফলও ভালো হচ্ছে। তবে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চান না। এ বছর ৮৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম। তিনি আরও বলেন, বর্ষার শুরু ও শেষের দিকে সবচেয়ে বেশি মুশকিলে পড়েন তারা। ওই সময় বহুকষ্টে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলজিইডি’র মাধ্যমে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক থেকে শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা করার চেষ্টা করা হবে।