‘ভিউ একটা আপেক্ষিক বিষয়’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ২২:০২

 

অভিনয় ও শিক্ষকতায় নিয়মিতই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছে অভিনেতা মনোজ প্রামানিক। গত ঈদেও তার বেশকিছু নাটক দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে হাতে রয়েছে একাধিক নাটকের কাজ। নিজের সাম্প্রতিক কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

কয়েকটি শর্টফিল্মের কাজ করছি। এছাড়া তানিম রহমান অংশুর একটি ওয়েব সিরিজ ও একটি নাটকের কাজ করছি। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজের কাজের কথা চলছে।

আপনি শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত বিজ্ঞাপন ও নাটক কাজ করছেন। এতে কাজের মান ধরে রাখা কতটা সম্ভব হচ্ছে?

নাটকে যেহেতু বাজেট অনেক কম সেহেতুে মান ধরে রাখা একটু সমস্যাই হচ্ছে। অল্প সময়ে কম বাজেটে কাজ করতে হচ্ছে। তবে একেবারেই যে ভালো কাজ হচ্ছে না, তা না। অন্যদিকে ওটিটির বাজেট, সময় একটু বেশি পাওয়ায় কোয়ালিটি ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং জনপ্রিয়তা বা প্রশংসা বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু ঈদের সময় নয়, প্রতিনিয়তই অসংখ্য নাটক নির্মাণ ও প্রচার হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে না। এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

একটা গল্পের যে দাবি, সময় ও মেধা প্রয়োজন সেটা তো দিতে হবে। এছাড়া একটি গল্প নিয়ে ভাবার যে সময়টা দরকার সেটা করতে হলে তো আর্থিক একটা নিশ্চয়তা পরিচালক বা শিল্পীর দরকার, সেই অর্থের জোগান তো তারা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক মেধাবী নির্মাতার পক্ষেও সেই মানের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অনেকেই বলছেন, নাটক বাণিজ্যক বা কর্পোরেট জগতের মানুষের হাতে চলে যাওয়ায় মানহীন কাজ বেশি হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

যখন একজন ভালো নির্মাতা দেখতে পাচ্ছেন তাকে চূড়ান্ত সমঝোতার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে তখন তারা নিজের মতো করে কাজ করতে পারছেন না। ফলে তারা দূরে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু চ্যানেলের তো কাজ দরকার। যে কারণে কাজ না জানা অনেকেই সেই সুযোগটা নিচ্ছে বলে মান কমে যাচ্ছে।

টিভি নাটকের প্রতি দর্শক আগ্রহ দিনদিন কমছে। এতে টিভি নাটকের ভবিষ্যত্ কোনদিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?

আমি মনে করি টিভি নাটক প্রচারের মাধ্যমই না। এখানে সিরিয়াল, অনুষ্ঠান বা নিউজ প্রচার হবে! তবে চলচ্চিত্রের অবস্থা খারাপ থাকার কারণে এক পর্বের একটি গল্প বলার চল শুরু হয়েছিল। এখন সেটা খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া দর্শকের যে মনোযোগ দরকার একটি গল্প দেখতে, সেটা টিভির সামনে বসে সম্ভব হচ্ছে না। তবে টিভি কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিলে আবার ভালো অবস্থান তৈরি হবে।

ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের যে চর্চার চলছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

ভিউ একদিক দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা, অন্যদিকে ভিউ কন্টোল করা সম্ভব। আমার মনে হয়, ভিউ একটা আপেক্ষিক বিষয়। কারণ ভিউ হলেও নাটকটি ভালো হবে, বিষয়টি তেমন না। অনেক ভালো কাজেরও ভিউ কম হয়, বুস্ট করে খারাপ কাজের ভিউ অনেক দেখানো যায়! মানুষ ভালোবেসে কোনটাকে গ্রহণ করছেন সেটাই বড় বিষয়।

ভিউগোনা স্টার বা পরিচালকরা নিজেস্ব ঘরানার বাইরে কাজ করতে চান না। এটা নতুন তারকা তৈরিতে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন না?

আমি সেটা মনে করি না। কারণ নতুন অনেকেই আসছেন এবং ভালো কাজ করছেন। ধৈর্য্য ধরে সততার সঙ্গে যারা কাজ করছে তারা টিকে থাকছে। যদি সে কাজ করতে চায় এবং কাজ জানে তাহলে নতুনদেরও অবস্থান তৈরিতে সমস্যা হওয়ার মতো কোনো কারণ আমি দেখি না। যে সুযোগ যখন আসবে তখনই সেটাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

নাটকের চরিত্র সংকট প্রকট হচ্ছে। এটা ভালো গল্প তুলে ধরার অন্তরায় বলে মনে করেন না?

এটা মূলত বাজেট কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যের কারণে হচ্ছে। এখন মূল টার্গেট গল্প বলা নয়, ভিউ বাড়ানো। বাণিজ্যের স্বার্থে যদি আগেই ঠিক করা হয় যে, অমুক শিল্পীকে রাখলে ভিউ হবে তাহলে তো এমন কাজই আমরা দেখতে পাবো। এ কারণেই গল্প হারিয়ে যাচ্ছে।

ওটিটি মাধ্যমটিকে কেউ আশীর্বাদ, আবার কেউ সংস্কৃতি ধ্বংসের কারণ বলছেন। আপনি এই নেতিবাচক আলোচনাকে কীভাবে দেখছেন?

এখানে নেতিবাচক আলোচনা করার মতো কিছু দেখি না আমি। অশ্লীলতা বলতে আমি সেটাই বুঝি যেটা অপ্রয়োজনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। গল্পের প্রয়োজনে যেকোনো কিছু উপস্থাপন সুযোগ থাকা উচিত। তবে উপস্থাপনের ভঙ্গিটাও এখানে জরুরি। এছাড়া অশ্লীলতা ছাড়াও কিন্তু অনেক কন্টেন্ট এরইমধ্যে তৈরি এবং প্রশংসিত হয়েছে।

বেশিরভাগ শিল্পী জনপ্রিয়তা পেলে বড়পর্দায় নিজেকে মেলে ধরতে চান। এ নিয়ে মনোজ প্রামাণিকের ভাবনা জানতে চাই—

আমি মনে করি আমি যা করছি তা-ই এক একটি চলচ্চিত্র। এখানেও একটি গল্পই বলা হচ্ছে। পার্থক্য শুধু পর্দার। তাছাড়া এখন তো বড়পর্দাও ন্যানো পর্দা হয়ে গেছে। তবে কথিত বড়পর্দারও কিছু কাজ করেছি, সেগুলো হয়তো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সিনেমা হলে দেখা যাবে।