জিও নিউজ থেকে হামিদ মীরের অপসারণ পাকিস্তানি সমাজের জন্য ক্ষতি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২১:০৮

একটি দেশ তখনই প্রকৃত উন্নতির দিকে অগ্রসর হয় যখন সেখানে মানুষ ও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে। কিন্তু পাকিস্তান এই দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বেড়ে চলেছে। তাদের কন্ঠরোধ করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৪ জুন) এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ।

সম্প্রতি ‘মিডিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি (পিএমডিএ) অধ্যাদেশ-২০২১’ নামে নতুন একটি মিডিয়া আইন জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার। যা একটি অত্যাচারী কর্তৃপক্ষের অধীনে মিডিয়া পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্রিয় করার চেষ্টা করে এবং কোনো সাংবাদিক নতুন বিধিটি লঙ্ঘন করলে তাকে দ্রুত শাস্তি প্রদানের জন্য মিডিয়া ট্রাইব্যুনালকে আহ্বান জানায়। আর এটি সেন্সরশীপকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। আইনটিকে রাষ্ট্রের ‘মিডিয়া মার্শাল ল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (পিএফইউজে)।

পাকিস্তানে বর্তমানে প্রত্যেক মিডিয়া ব্যক্তি মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে বলছে এবং এ নিয়ে লেখালেখি ও রাষ্ট্র কর্তৃক বাড়াবাড়ির বিরোধীতা করছে। কিন্তু এই সাহসী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা লেগেই আছে। তাদের মধ্যে একজন হামিদ মীর। ২০১৪ সালে তাকে একবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি ছয়বার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং বারবার চাকুরিচ্যুত হন। বর্তমানে তার কন্ঠ আরো শক্তিশালী।

সামরিক বাহিনীর চাপের কারণে গত ৩১ মে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ থেকে হামিদ মীর চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টির সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ অধিকার সংগঠনগুলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে মীর বলেন, ইসলামাবাদে একটি বিক্ষোভে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার পরই তাৎক্ষণিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আসলো। গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক আসাদ আলি টুর। সেটির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা। হামলাকারীরা তিনজন ছিলেন এবং তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সদস্য বলে শনাক্ত করতে পেরেছে আসাদ আলি টুর।

ইত্তেফাক/টিএ