বাইক্কা বিলে পাখিশুমারি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭

শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে এ বছর ৩৯ প্রজাতির ১১ হাজার ৬১৫টি দেশীয় ও পরিযায়ী জলচর পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পৃথিবী জুড়ে বিপন্ন পাঁচ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। এছাড়াও ১৯ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আর ২০ প্রজাতির দেশীয় জলচর পাখির গণনা করা হয়েছে। এশিয়ান ওয়াটার বার্ড সেনসাসের অধীনে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের পরিচালনায় বাইক্কা বিলে গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এক পাখিশুমারি শেষে পাখি বিশেষজ্ঞ ড. পল থম্পসন এ তথ্য জানান।

পাখি বিশেষজ্ঞ পল থম্পসন জানান, জলাভূমির সূচক অনুযায়ী শুধুমাত্র জলচর পাখিকেই এ গণনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ বছর বাইক্কা বিলে খয়রা কাস্তেচরা নামের পরিযায়ী জলচর পাখিটি এতো বেশি এসেছে যা আর কোনও সময় আসেনি। চার/পাঁচ বছর আগে এ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে দেখা মেলেনি। বর্তমানে প্রতি বছর এর সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর বাইক্কা বিলে এ জাতীয় ২৮৮টি পাখির দেখা মিলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি এসেছে গেওয়ালা বাটান পাখিটি। এছাড়া বাইক্কা বিলের পাখি শুমারিতে অন্যান্য পাখির মধ্যে পাতি তিলি হাঁস ২ হাজার ২২০টি, উত্তুরে ল্যঞ্জা হাঁস ৯২১টি, রাজ শরালী ৩৯৮টি, পাতি শরালী ৮৬০টি পাখি গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবী জুড়ে বিপন্ন পাঁচ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। এগুলো হচ্ছে বড়গুটি ঈগল, পালসী কুড়া ঈগল, উদয়ী গয়ার, কালা মাথা কাস্তেচড়া ও মরচেং ভূতিহাঁস।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর, কুলাউড়ার হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, উপকূলীয় অঞ্চলের নিঝুম দ্বীপ, উপকূলীয় দ্বীপ, সোনাদিয়া, সন্দ্বীপসহ অনেকগুলো স্থানে একযুগে এ পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।