নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সব ধরনের দূষণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারিসিক। একই সাথে তারা ভেজালবিরোধী অভিযান শহরের বড় হোটেল রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে খাদ্য উত্পাদন পর্যন্ত প্রসারিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে পবা কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘দূষিত পরিবেশ : নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে পবার চেয়ারপারসন আবু নাসের খান বলেন, বিষমুক্ত খাদ্য আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এ আইন বাস্তবায়নে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরু করেছে। মোবাইল কোর্ট, মিডিয়া ও কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হলেও, এখনো কৃষি ও প্রাণিজাত উত্পাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, খাদ্য উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিষাক্ত পদার্থের ব্যবহারের ফলে প্রায় সব খাদ্যেই বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ব্যাপক।
এছাড়াও মাটি-পানি-বাতাস দূষিত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। ফলে জনস্বাস্থ্যও হুমকিতে পড়ছে।
সেমিনারে বারিসিকের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চারপাশের পরিবেশ নানাভাবে দূষিত ও বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্যের যোগান দেওয়া সত্যিই দুরূহ কাজ। কিন্তু সকলের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অবশ্যই নিরাপদ খাদ্যর যোগান জরুরি। আর নিরাপদ খাদ্যের প্রাথমিক শর্ত হলো দূষণমুক্ত পরিবেশ।
প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, একজন ভোক্তা ও ক্রেতা হিসেবে প্রথমত আমরা খাদ্যকে নিরাপদ দেখতে চাই। নিরাপদ মানে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য। এ অবস্থায় খাদ্য উত্স ও উত্পাদনস্থলকেই প্রথমত নিরাপদ করাটা জরুরি। এরপর খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন, বিপণন, মজুতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশন। জমির মাটি থেকে খাবার থালা পর্যন্ত খাদ্য নিরাপদ হওয়া জরুরি।
আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ যথাযত বাস্তবায়ন, নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনে সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত খাদ্যের মান পরীক্ষা করে জনগণকে জানানোর ব্যবস্থা, মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সব পর্যায়ে খাদ্যকে কীটনাশকসহ সকল প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সেমিনারে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন পবার চেয়ারপারসন আবু নাসের খান। বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী আবদুস সোবহান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, সম্পাদক আরিফ উজ্জ্বল, বারিসিকের সমন্বয়কারী পাভেল পার্থ, কৃষিবিদ এবিএম তৌহিদুল আলম, প্রাকৃতিক কৃষির দেলোয়ার জাহান, নৃবিজ্ঞানী সৈয়দ আলী বিশ্বাস, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদসহ আরো অনেকে। পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারিসিকের জাহাঙ্গীর আলম এবং গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন ড. আদনান খান, সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি হুমায়ন কবীর হিরু প্রমুখ।
