বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই মেলায় প্রকাশ বা বিপণন করা যাবে না। কেউ করলে আমাদের গোয়েন্দারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। মাসব্যাপী একুশে বইমেলা শুরুর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। লেখক, প্রকাশক ও ব্লগাররা তাদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজন মনে করলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, আমাদের অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে।
গত দেড় যুগে বই মেলা চলাকালে অন্তত দুবার জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০০৪ সালে প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আজাদকে কোপানো হয় মেলার বাইরে। সে সময় গুরুতর আহত এই লেখক সুস্থ হলেও পরে মারা যান। ২০১৫ সালে লেখক ও ব্লগার অভিজিত্ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মেলা থেকে ফেরার পথে।
এবারও কোনো ধরনের কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সংঘবদ্ধভাবে জঙ্গিরা হামলার চালানোর শক্তি নেই। তবে দুই-একজন বিচ্ছিন্নভাবে হামলার চেষ্টা করতে পারে। গোয়েন্দারা এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও
আসা যাওয়ার পথ
মেলা উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্ণনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়াও টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পুলিশের থাকবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। এছাড়া মেলার চারপাশে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বইমেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট এবং সোয়াট টিমের সদস্যরা প্রস্তুত থাকবে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা শতভাগ সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এছাড়া টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পুরো এলাকাও সিসিটিভির আওতায় থাকবে। মেলার ভেতরে এবং বাইরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই পিডব্লিউর সঙ্গে কথা বলেছি।
