মৌসুমি

কাঠগোলাপ

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ২১:১০

 

কাঠগোলাপের সাদার মায়া যে কারো মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে। মূলত মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ভেনিজুয়েলা ও দক্ষিণ ভারতীয় অঞ্চলের স্থানীয় ফুল। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় বর্তমানে আমাদের দেশেও কাঠগোলাপের ব্যাপক দেখা মিলছে। অঞ্চলভেদে আমাদের দেশে কাঠগোলাপকে কাঠচাঁপা, গোলকচাঁপা, গরুড়চাঁপা, চালতা গোলাপ ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। আমেরিকাতে প্লুমেরিয়া, দক্ষিণ চীনে এগ ফ্লাওয়ার, ভেনিজুয়েলাতে অ্যামপোলা নামে সবাই ডাকে। এর পাপড়ির রং দুধের মতো সাদা। জাতভেদে ফুলের ওপর হলুদ দাগ, আবার কোনো ফুলের ওপর লালচে গোলাপি রঙের দাগ দেখা যায়। ফুলটির শুভ্র পাপড়ির কেন্দ্রের ওপর এই রং বিন্যাস যে কোনো ফুলপ্রেমিককে সহজেই মুগ্ধ করে।

কাঠগোলাপ গাছ ৮-১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। দীর্ঘ ছাল আবৃত ও ঘন বৃত্তাকার শাখাপ্রশাখায় বিস্তৃত। বাকল মোটা ও পুরু। গাছের ডালে সাদা বিষাক্ত রস আছে। সারা বছর ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতে বেশি ফুলের দেখা মেলে। ফুলের ব্যাস দুই ইঞ্চি। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুল সুগন্ধি। রাতে এর সুঘ্রাণ বেশি ছড়ায়। জাতভেদে কাঠগোলাপ গাছ ছোট বড় হতে পারে। এই গাছ থেকে সুগন্ধি, তেল, লোশন এবং মোম বানানো হয়। নারকেল তেলের সঙ্গে এর কষের মিশ্রণ চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ফুলটি পূজার উপকরণ। বৌদ্ধরা একে মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক বলে মনে করেন।

নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত

 

 

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে কাঠগোলাপের মায়াবী স্নিগ্ধতা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছবিটি তুলেছেন রবিন আহমেদ শান্ত