মাহবুব এ রহমান
পড়াশোনা তো এখনো বাকি। একেবারে শেষ করে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড দাঁড় করালে হতো না! একগাল হেসে তার উত্তর—‘একদম তা নয়। আসলে এই অবসরকে কাজে লাগিয়ে মনের সুপ্ত স্বপ্নটাকে একটু নেড়েচেড়ে দেখা।’
আফসানা রাত্রি মিশু। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বাংলাদেশ হোম ইকোনমিকস কলেজে। দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ইউথ প্ল্যাটফরমে তার বেশ নামডাক। কাজ করছেন এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকসের এশিয়ান এম্বাসাডর এবং দেশের জনপ্রিয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফরম এক্সিলেন্স বাংলাদেশের করপোরেট এফেয়ার্স হেড হিসেবে। এসব কাজের পাশাপাশি করোনাকালীন এ দীর্ঘ অবসরকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা।
ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি বেশ ঝোঁক রাত্রির। বুঝতে শিখার পর থেকেই ইচ্ছা ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। তাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বেছে নিয়েছেন ক্লদিং অ্যান্ড টেক্সটাইলকেই। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান রাত্রিস ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড। যেখানে তাঁতিদের দিয়ে শাড়ি বুনিয়ে নিজ হাতে তুলির আঁচড়ে রাঙান আঁচল। পাশাপাশি শাড়ির মধ্যে ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হ্যান্ড পেইন্টিং, টাইডাই, স্টিচ, এমব্রয়ডারিসহ সবকিছুই করেন। শাড়ি দিয়ে শুরু করলেও এখন গিয়ে তা ঠেকেছে ফতোয়া, কামিজ এমনকি পাঞ্জাবি পর্যন্তও। যাত্রার পর বেশ সাড়া ফেলেছে রাত্রিস ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের অনেকেও দেশীয় পণ্যের স্বাদ নিতে শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করছেন রাত্রির প্রতিষ্ঠান থেকে। এখন কাজের পাশাপাশি দিনের খানিকটা সময় পণ্য বিপণন নিয়েও কাটাতে হয় তাকে। সময়ে সময়ে অনেকের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান। রাত্রির ভাষায়, ‘শুরু করেছিলাম ২৪টা ডিজাইনের শাড়ি করে, প্রথম মাসেই সবগুলো সেল হয়ে গিয়েছে। এখন যে পরিমাণ অর্ডার আসছে তা সত্যিই আমার ধারণার বাইরে। শেষ কদিন থেকে দেশের বাইরে থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ সাড়া পাচ্ছি। অনেকে এখন শাড়ির জন্য আমার ফ্যাশন হাউজের ওপর আস্থাশীল।’
রাত্রি বলেন, কাজের পেছনে মা-বাবা অনেক বেশি অনুপ্রেরণা দেন এবং কাছের মানুষ জন যারা আছেন সবাই পাশেই আছেন। সবাই আমার কাজে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন। আপাতত এটাই বড় পাওয়া| রাত্রি প্রতিষ্ঠানের ফোকাসে রেখেছেন দেশীয় পণ্যকে। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার তুলির আঁচড়কৃত ডিজাইনের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের মুগ্ধতা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেবেন।
