কোনো অপরাধ না করেই হত্যা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে যেতে হয়েছিল বিনু আক্তারকে। ওই মামলায় প্রকৃত আসামি ছিলেন কুলসুমি আক্তার সুমি নামে এক নারী। কিন্তু পুলিশ ও আইনজীবীদের ভুলে সুমির পরিবর্তে বিনু আক্তারকে কারাগারে যেতে হয়। তিন বছর কারাভোগ করে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ভার্চুয়াল শুনানি শেষে আজ সোমবার বিনু আক্তারকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। বিনু আক্তার বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশের কপি আসার পর তিনি মুক্তি পাবেন।

বিনু আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘২০০৬ সালে নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন কুলসুমি আক্তার সুমি নামে এক নারী। পুলিশ সুমির পরিবর্তে বিনু আক্তার নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার রায়ে বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে বিনুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুল ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।’
পরবর্তীতে বিনু আক্তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলে আমরা বিষয়টি চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এবং চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রতিকার প্রার্থনা করি। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিনু আক্তারের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিষয়টি উচ্চ আদালতে রেফার করা হয়। গত দুদিন শুনানির পর আজ বিনু আক্তারকে মুক্তি দিয়ে আদেশ প্রদান করেন উচ্চ আদালত।
ইত্তেফাক/এএএম
