বইমেলা আমাদের স্বপ্নের বাতিঘর

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

বইমেলা আমাদের আবারো চলে এলো অমর একুশের গ্রন্থমেলা। ভাষা-শহিদদের স্মৃতি বিজড়িত মহান ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় বাঙালির এই সাংস্কৃতিক উত্সবের। আজ কে-না জানি যে অমর একুশের শোক বহুবছর আগেই শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একুশের স্বর্ণফসল বাঙালির জাতীয়তাবোধ শক্তির বিস্ফোরণ— যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সফল নেতৃত্বে গোটা ষাটের দশকজুড়ে বাঙালিকে স্বাধিকারের চেতনা থেকে স্বাধীনতার তৃষ্ণায় উজ্জীবিত করেছে, উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে একুশের গ্রন্থমেলাও আজ আর নিছক বইয়ের বিপণন   মেলা নেই, দিনে দিনে তা হয়ে উঠেছে সমগ্র জাতির মেধা ও মননের মেলা, লেখক পাঠক- প্রকাশকের মিলনমেলা— এক কথায় যাকে বলে বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উত্সবের মেলা।

স্বাধীনতার পর বাংলা একাডেমির খোলাপ্রান্তরে পাকুড় গাছের নিচে (বর্তমান নজরুল মঞ্চ) চট বিছিয়ে সেই যে মুক্তধারার স্বত্বাধিকারী শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা একুশে ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের ব্যানারে বই বিপণন শুরু করেছিলেন, তা আজ দিনে দিনে যেন ছোট্ট চারা থেকে বিশাল মহীরুহে পরিণত। আসলে চিত্তবাবুকে এই মেলার পথিকৃত্ বললে বেশি বলা হবে না, তিনি সেই যে একুশে ফেব্রুয়ারি সৃজনশীল সাহিত্য আর মননশীল জ্ঞানের বই পাঠকদের কাছে সরাসরি তুলে ধরার পদক্ষেপ নিলেন, মূলত তা-ই অন্যান্য প্রকাশককে উদ্বুদ্ধ করেছিল জ্ঞান ও সৃজনের আনন্দের মেলা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।

আমরা ১৯৮৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টল সাজিয়ে বইমেলার বড় আয়োজন করতে দেখি বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকদের সম্মিলিত উদ্যোগে। এই মিলিত প্রয়াস আজ যেন নদীর সীমানা ছাড়িয়ে জ্ঞানের মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এ বড় আনন্দের অর্জন। দেশ স্বাধীন না হলে মনন আর সৃজনের এমন আনন্দ জোয়ার বাঙালির চেতনায় প্রবাহিত হতো কিনা বলা কঠিন। আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে যে বিশাল গ্রন্থমেলার আনন্দভুবন প্রত্যক্ষ করছি, তা যে আমাদের মননশীলতা আর সৃজনশীলতাকে কত দূর প্রসারিত করেছে, সেই বিস্ময়ই মনকে বিহব্বল করে তুলছে।

এই বইমেলা অসাম্প্রদায়িক এক মহত্তম উত্সবও বটে। কেননা এই মেলা থেকেই আমরা প্রতিবছর আবিষ্কার করছি আমাদের নতুন নতুন তরুণ লেখক, নতুন প্রকাশক আর আমাদের চালিকাশক্তি নতুন পাঠক-পাঠিকাদেরকেও! আমাদের শিশুরাও এই বইমেলা থেকেই সাহিত্য পাঠের হাতেখড়ি নিচ্ছে। কারণ শিশুদের জন্য গত কয়েক বছর ধরে যে চমত্কার ‘শিশুপ্রহর’ এর আয়োজন করা হয়েছে, তাতে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে মা-বাবার হাত ধরে শিশুরা তাদের পছন্দের বই কিনে বাড়ি ফিরছে। এবার তো আরও চমত্কার আয়োজন।